default-image

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার ৪৫টি অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সম্প্রতি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২টি ১০তলা ভবন ও ১টি স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজে উপাচার্যের অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে ইউজিসির আরেকটি সরেজমিন তদন্ত কমিটি। এর জন্য উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওই কমিটির প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, উপাচার্যের বিরুদ্ধে ৪৫টি অভিযোগ তুলে ধরে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রী বরাবর একটি চিঠি পাঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি কমলেশ চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান। এখন ওই ৪৫ অভিযোগের সরেজমিন তদন্ত করতে রংপুরে আসছে ইউজিসির তদন্ত কমিটি।

এ নিয়ে ইউজিসির জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব জামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি গত মঙ্গলবার হাতে পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষক।

চিঠিতে জানানো হয়েছে, ৪৫টি অভিযোগ তদন্তে ১৩ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবে একটি কমিটি। উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা ওই সব অভিযোগের দালিলিক প্রমাণাদিসহ অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের উপস্থিত থাকার জন্য তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চিঠি পাওয়া ওই সাত শিক্ষক হলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি এবং গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কমলেশ চন্দ্র রায়, পরিষদের সম্পাদক এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গাজী মাজহারুল আনোয়ার, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এইচ এম তারিকুল ইসলাম, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খায়রুল কবির, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাব্বীর আহমেদ এবং অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন।

এ ছাড়া উপাচার্যের একান্ত সচিবকেও চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে উপাচার্যের একান্ত সচিব আমিনুর রহমান তদন্ত কমিটির চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা ৪৫টি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা অমান্য করে ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক অনুপস্থিতি, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া, ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে জনবল নিয়োগ, শিক্ষক ও জনবল নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম, নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি হয়েও অনুপস্থিত থাকা, নিরাপত্তাহীন ক্যাম্পাস, ইচ্ছামতো পদোন্নতি, আইন লঙ্ঘন করে একাডেমিক-প্রশাসনিক পদ দখল, ক্রয় প্রক্রিয়ায় নীতিমালা লঙ্ঘন ইত্যাদি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, ‘নানা অনিয়ম-দুর্নীতির ৪৫টি অভিযোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বরাবর পেশ করেছি। তা এত দিন পর তদন্ত দল তদন্ত করতে আসছে। এ মর্মে তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা ওই দিন তদন্ত কমিটির কাছে অভিযোগ প্রমাণের মতো কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত থাকব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন