পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য ও সহ-উপাচার্য যোগ দিয়েছেন। গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের পর গতকাল রোববার তাঁরা ক্যাম্পাসে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ফলে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে গতি ফিরবে বলে আশা করছেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ লাভের পর শনিবার দুপুরে নবনিযুক্ত উপাচার্য হাফিজা খাতুন ও সহ-উপাচার্য এস এম মোস্তফা কামাল খান একসঙ্গে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাঁদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। আনুষ্ঠানিকভাবে কাজে যোগদানের পর তাঁরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষের স্মারক ম্যুরাল ‘জনক জ্যোতির্ময়’, স্বাধীনতা চত্বর ও শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। গতকাল ইস্টার সানডের ছুটি থাকার পরও সকালে দুজন ক্যাম্পাসে আসেন। তাঁরা ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন চৌধুরী বলেন, নতুন উপাচার্য ও সহ-উপাচার্য যোগদানের পর থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষক ও কর্মকর্তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছেন। এক পক্ষ সাবেক উপাচার্য এম রোস্তম আলীর অনুসারী ছিলেন। অন্য পক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে অবস্থা নিয়ে চলছিলেন। ফলে তিন বছর ধরে শিক্ষক পরিষদের নির্বাচনসহ বহু কর্মকাণ্ড বন্ধ রয়েছে। এসব আটকে থাকা নির্বাচনসহ নানা কর্মকাণ্ড আবার শুরু হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, দীর্ঘ তিন বছর শিক্ষক সমিতির নির্বাচন নেই। এতে শিক্ষকদের মধ্যে বিভিন্ন দল সৃষ্টি হয়েছে। পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ নষ্ট হয়ে গেছে।
বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম আবদুল আলীম বলেন, ‘আমরা সাধারণ শিক্ষক। কোনো দলাদলি চাই না। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হোক। নতুন উপাচার্য ও সহ-উপাচার্য যোগদানের পর বিশ্ববিদ্যালয় নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আমরা চাই তাঁদের নেতৃত্বে এই বিশ্ববিদ্যালয় একটি আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হোক।’
সহ-উপাচার্য মোস্তফা কামাল খান বলেন, অভ্যন্তরীণ সমস্যা ভুলে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সবার ওপরে বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাধান্য দিতে হবে। তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মার্চ সাবেক উপাচার্য এম রোস্তম আলীর মেয়াদ শেষ হওয়ার নির্ধারিত দিন ছিল। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি রিজেন্ট বোর্ডের ৬০তম সভা আহ্বান করেন। সভায় ৬১টি আলোচ্যসূচির মধ্যে ৪২টি ছিল নিয়োগ–সংক্রান্ত। এতে ১০২ জনের নিয়োগপ্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। নিয়োগ–সংক্রান্ত জটিলতায় তিনি সভা স্থগিত করেন। এতে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে প্রায় ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পরে রোস্তম আলী ২৪ ফেব্রুয়ারি রিজেন্ট বোর্ডের সভা আহ্বান করে ক্যাম্পাস ছাড়েন। এর ১৩ দিন পর রাত ৮টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে আসেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ ছাড়া শিক্ষকেরা ১০ কোটি টাকার বই কেনাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। রোস্তম আলী ২ দিন ক্যাম্পাসে অবস্থান করে মেয়াদ শেষের ৯ দিন আগে চুপিসারে ক্যাম্পাস ছাড়েন।
নবনিযুক্ত উপাচার্য হাফিজা খাতুন বলেন, ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাঁরা এ বিশ্ববিদ্যালয়কে সেরা হিসেবে গড়ে তুলতে চান। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করলে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠানকে ভালোবাসতে হবে।