default-image

পাবনা পৌরসভা নির্বাচনে উৎসবমুখর প্রচারণার শেষ পর্যায়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। শহরের কয়েকটি স্থানে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ব্যক্তিরা হলেন পৌর এলাকার মহেন্দ্রপুর মহল্লার সোহেলুর রহমান (৩৫), দ্বীপচর মহল্লার আকরাম হোসেন (৫০), শালাগাড়িয়া মহল্লার বকুল হোসেন (৩৫), নাজমুল হোসেন (৩০), ইজাজুর রহমান (৩৫), আবদুল লতিফ (৩৪) ও সেন্টু সেখ (৩০)।

পুলিশ ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রচারণার শেষ দিন উপলক্ষে সকাল থেকেই মেয়র পদের প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শহরে মিছিল সমাবেশ করছিলেন। সকালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শরিফ উদ্দিন প্রধান দলের একাংশের নেতা-কর্মীদের নিয়ে মিছিল করেন। বিকেলে শহরে অবস্থান নেন আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী আলী মুর্তজা বিশ্বাসের সমর্থকেরা। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁরা শহরে মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বরে পথসভা করেন। পথসভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা বক্তব্য দেন। এর মধ্যেই বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় দলের ১৮ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও পথসভার বক্তব্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন সদর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের কমিটি স্থগিত ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

পথসভা শেষে নেতা-কর্মীরা বাড়ি ফিরতে গেলেই উত্তেজনা শুরু হয়। সন্ধ্যা সাতটার দিকে শহরের শালগাড়িয়া গোডাউন মোড় এলাকায় একদল যুবক আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একই সময়ে মধ্য শহরের ইন্দিরা মোড় ও পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের মেরিল বাইপাস মোড়ে দুই দল যুবকের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ছুরি ও লাঠির আঘাতে ১০ জন আহত হন।

এ খবরে পুরো জেলা শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। মুহূর্তের মধ্যেই দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
রাত সাড়ে আটটার দিকে মধ্য শহর ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। মধ্য শহরের আব্দুল হামিদ সড়কের বীণা-বাণী সিনেমা হল মোড়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও একই সড়কের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থক নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। মাঝখানে পুলিশ তাঁদের দুইভাবে বিভক্ত করেছে। এর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষের মিছিল নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাত সাড়ে নয়টার দিকে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছিম আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, হঠাৎ শহরে একটু উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সাড়ে নয়টার মধ্যে সব প্রার্থীর সমর্থকেরা শহর ত্যাগ করেছেন। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

৩০ জানুয়ারি পৌরসভায় ভোট গ্রহণ হবে। পৌর এলাকার মোট ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ২৪৪ জন। নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের বাইরে আওয়ামী লীগের একজন বিদ্রোহী প্রার্থী এবং ইসলামী শাসনসন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশের একজন প্রার্থী রয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে পাঁচ প্রার্থী সমানতালে প্রচারণা চালিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন