default-image

একাত্তরে দেশ শত্রুমুক্ত করতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। রাইফেল কাঁধে নিয়ে লড়াই করেছেন পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে। দেশ স্বাধীন করে বিজয়ীর বেশে ঘরে ফিরেছিলেন সেদিনের টগবগে তরুণ। সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার এখন আর্থিক অনটনে চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে দিন কাটছে।

আবদুস শুকুর জমাদ্দার নামের এই বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাচই গ্রামে। তাঁর বয়স এখন ৭৩। তাঁর শরীরজুড়ে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ। নির্বাক হয়ে গেছেন। কথা বললে বোঝা যায় না। শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। তিনি এখন শয্যাশায়ী। চলতে হয় অন্যের কাঁধে ভর করে।

আবদুস শুকুরের স্ত্রী শিরিনা বেগম জানালেন, তাঁরা দুজনই অসুস্থ। বড় দুই ছেলের আয় সামান্য। তাঁরা সংসারে টাকা দিতে পারেন না। আছে ছোট ছেলের পড়ার খরচ। মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ১২ হাজার টাকা দিয়ে সব খরচ চালাতে হয়। স্বামীর চিকিৎসার জন্য মুক্তিযোদ্ধা ভাতার বিপরীতে দুই লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসা করাতে গিয়ে সে টাকা শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুই লাখ টাকার কিস্তি কেটে প্রতি মাসে এখন ৭ হাজার ৪০০ টাকা ভাতা পাওয়া যায়। এ অবস্থায় সংসারই চলছে না। আর চিকিৎসার খরচ কীভাবে চলবে? বুড়ো বয়সে এখন চিকিৎসা অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে হবে।’

চিকিৎসা অভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যু দিকে যাবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। শুকুর জমাদ্দারের চিকিৎসার জন্য সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।
আবদুল হামিদ, লোহাগড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার

বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা জানান, ছয় বছর আগে আবদুস শুকুরের পেটে জটিল অস্ত্রোপচার করতে হয়। প্রায় তিন বছর আগে থেকে শরীরের নানা সমস্যা দেখা দেয়। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। দেড় মাস আগে কিডনিতে সমস্যা ধরা পড়েছে। এক মাস আগে ব্রেন স্ট্রোক করেছেন। শ্বাসকষ্ট এক মাস ধরে। স্ত্রী শিরিনা বেগমও অসুস্থ। তাঁর আছে হৃদরোগ ও কিডনির সমস্যা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্ত্রী, চার ছেলে ও দুই মেয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার। বড় দুই ছেলে টেক্সটাইল কারখানায় ছোট চাকরি করেন। সেজ ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী। ছোট ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। এক মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। আরেক মেয়ের বয়স ২৫-২৬ বছর। ৯ শতাংশ জমির ওপর তাঁদের বসতভিটা। আর কোনো জমিজমা নেই। শুকুর জমাদ্দার ছিলেন কৃষিজীবী। বর্গা চাষ করে কোনোমতে চলত সংসার।

আবদুস শুকুরের শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে শাহীন জমাদ্দার বলেন, তাঁর বাবাকে যশোর ও খুলনার বিভিন্ন ক্লিনিকে ও হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। ওষুধও কিনতে পারছেন না। শাহীন জমাদ্দার বলেন, ‘আমি অষ্টম শ্রেণি পাস। বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে অফিস সহায়ক পদে আবেদন করেছি। চাকরি হলে সংসারটি বাঁচানো যেত।’

লোহাগড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবদুল হামিদ বলেন, চিকিৎসা অভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যু দিকে যাবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। শুকুর জমাদ্দারের চিকিৎসার জন্য সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। দানশীল মানুষও এগিয়ে আসতে পারেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন