বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ভবনমালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আকবর শাহ থানা-পুলিশ তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে নগরের উত্তর কাট্টলী এলাকা থেকে ভবনমালিক মমতাজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার পর গা ঢাকা দেন ভবনমালিক মমতাজ মিয়া। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভাড়াটিয়া বারবার বলার পরও কেন গ্যাসের লিকেজ মেরামত করার উদ্যোগ নেননি মমতাজের কাছে তা জানতে চাওয়া হবে।

ওসি জহির হোসেন আরও বলেন, মামলার আরেক আসামি ভবনটির তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ বখতিয়ারকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গত সোমবার রাতে নগরের আকবর শাহ থানার উত্তর কাট্টলীর ছয়তলা একটি ভবনের ফ্ল্যাটে গ্যাসের আগুনে দগ্ধ হন একই পরিবারের ছয়জন। তাঁদের মধ্যে সাজেদা বেগম নামের এক নারী গতকাল রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিরা চিকিৎসাধীন।

ঘটনার দিন রাতে পরিবারের এক সদস্য ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে বৈদ্যুতিক ব্যাট দিয়ে মশা মারতে গেলে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়। বাসাটির মধ্যে থাকা গ্যাসলাইনে লিকেজ থাকায় এ দুর্ঘটনা বলে পুলিশ ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সূত্র জানায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের কর্তা জামাল শেখ বাদী হয়ে আকবর শাহ থানায় ভবনটির মালিকসহ দুজনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বাসার মধ্যে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে বারবার মালিককে বলা হয়। কিন্তু মালিক কর্ণপাত করেননি। মালিকের অবহেলার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গত বছরের ৯ নভেম্বর ওই ভবনের একই ফ্ল্যাটে গ্যাসের আগুনে দগ্ধ হন সাতজন। তাঁদের মধ্যে তিনজন মারা যান। এ ঘটনার পর ফ্ল্যাটটিতে কোনো ভাড়াটিয়া উঠছিলেন না। তিন মাস আগে একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী জামাল শেখ তাঁর পরিবার নিয়ে ফ্ল্যাটটিতে ওঠেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন