বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খোকন থৌনাউজম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্ট থেকে তাঁরা জানতে পারেন, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদারঘাট ইউনিয়নের লাউরগড় গ্রামে জনৈক বাবুল মিয়ার বাড়িতে একটি লজ্জাবতী বানর আটকে রাখা হয়েছে। খবর পাওয়ার পরই তাঁরা প্রথমে বাবুল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁকে বুঝিয়ে বানরটি ছেড়ে দিতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর বাবুল মিয়াকে জানানো হয় প্রচলিত বন্য প্রাণী আইনে যেকোনো বন্য প্রাণী পালন, ধরা, হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। এরপরও সাড়া না মিললে প্রাণীটি সম্পর্কে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (মৌলভীবাজারে কার্যালয়) রেজাউল করিম চৌধুরীকে জানানো হয়। এসইডব্লিউর সদস্যরা লজ্জাবতী বানরটিকে উদ্ধারে অভিযানে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশনা মোতাবেক আজ শুক্রবার সকাল আটটার দিকে উদ্ধারকারী দলটি সুনামগঞ্জে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করে। বেলা একটার দিকে তারা সেখানে পৌছায়। এরপর গণমাধ্যমকর্মীসহ স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বাবুল মিয়ার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে বানরটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শেষে তারা মৌলভীবাজারের উদ্দেশে লজ্জাবতী বানরটিকে নিয়ে রওনা দেয়। লজ্জাবতী বানরটিকে লাউয়াছড়ার জানকীছড়ায় বন্য প্রাণী রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়েছে। দুই–এক দিন পর্যবেক্ষণের পর এটিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হবে।

বন্য প্রাণী গবেষকদের সূত্রে জানা গেছে, লজ্জাবতী বানর লাজুক বানর নামেও পরিচিত। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) লজ্জাবতী বানরকে সংকটাপন্ন প্রাণী হিসেবে লাল তালিকাভুক্ত করেছে। এটি দেশের ক্ষুদ্রতম বানর জাতীয় প্রাণী। বাংলাদেশে, মূলত চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনের বাসিন্দা। এগুলো নিশাচর ও বনের গভীরে উঁচু গাছে থাকতে পছন্দ করে। দিনে গাছের খোঁড়লে বা ঘন পাতার আড়ালে ঘুমিয়ে কাটায়। বিরল, নিশাচর ও লাজুক হওয়ায় দিনে সহজে চোখে পড়ে না। এগুলো গাছে গাছেই থাকে এবং সহজে মাটিতে নামে না। অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাফেরা করে। এগুলো সাধারণত ফল, পাতা, উদ্ভিদের কষ বা নির্যাস ইত্যাদি খায়। মাঝেমধ্যে বড় কীটপতঙ্গ, পাখির ডিম-ছানা, সরীসৃপও খেয়ে থাকে।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, বানরটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাণীটিকে পর্যবেক্ষণ করে যদি মনে হয় সুস্থ আছে। তাহলে আগামীকাল শনিবার অবমুক্ত করা হবে। নয়তো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবা দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর অবমুক্ত করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন