default-image

‘অন্যান্য খাত’ শিরোনামে থাকা বিভিন্ন মামলাকে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে অভিযোগের সত্যতা। এতে গত এক বছরে মৌলভীবাজারে আগের বছরের তুলনায় আড়াই শতাধিক মারামারির মামলা কমে গেছে। জেলা পুলিশের এমন উদ্যোগে একদিকে মামলার চাপ কমেছে, অন্যদিকে হাজারো সাধারণ মানুষ মিথ্যা ও সাজানো মামলার হয়রানি থেকে রেহাই পেয়েছেন।

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা হয়ে থাকে। সেখানে জেলার সব অপরাধের পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনা করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মামলাকে ধরন অনুযায়ী, ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, দ্রুতবিচার আইনে, দাঙ্গা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে, অপহরণ, পুলিশ আক্রান্ত, সিঁধেল চুরি, চুরি, উদ্ধারসংক্রান্ত এবং অন্যান্য খাত শিরোনামে উপস্থাপন করা হয়। গত বছর (২০১৯) ফারুক আহমেদ পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর অন্যান্য খাতে থাকা মামলাগুলোর ধরন পর্যালোচনা করেন। এতে দেখা যায় মোট মামলার বেশির ভাগই অন্যান্য খাতের। তখন পুলিশ সুপার এই খাতের মামলাগুলোকে বিভাজন করে সুনির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক ছকে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। অন্যান্য খাতের মামলাগুলোর মধ্যে ছিল জখমসংক্রান্ত, অগ্নিসংযোগ, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, সন্ত্রাস দমন আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, মানি লন্ডারিং আইন, মানব পাচার, কন্ট্রোল অ্যাক্ট, বাল্যবিবাহ নিরোধ, পাসপোর্ট, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ, প্রতারণা, আত্মহত্যার প্ররোচনা, চাঁদাবাজি, জাল নোট ইত্যাদি।

মারামারির মামলার অনেকগুলোই ছিল মিথ্যা ও সাজানো। এতে হয়রানির শিকার হন সাধারণ মানুষ। কারণ মামলা করার সময় একসঙ্গে অনেক মানুষকে জড়ানো হয়।
ফারুক আহমেদ, পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজার

অন্যান্য খাতের মামলাগুলোকে পৃথক শিরোনামে আলাদা করার পর দেখা গেছে, জেলার মোট মামলার ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশই মারামারি (জখম) সংক্রান্ত মামলা। অনেক সময় মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে অনেক মারামারি (জখম) মামলা হয়ে থাকে। পুলিশ সুপার সব থানাকে মারামারি কমানোর উদ্যোগ, মারামারি মামলা রুজু করার সময় এর সত্যতা যাচাই করে গ্রহণ ও সব মামলাকে ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করার নির্দেশনা দেন।

বিজ্ঞাপন

যাচাই-বাছাইয়ের কারণে দেখা যায়, আগের বছরের তুলনায় মারামারির মামলা কমে যায় ২৫৫টি। জেলা পুলিশ জানায়, ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত জেলায় অন্যান্য খাতে মোট মামলা হয়েছিল ১ হাজার ১৮২টি। এর মধ্যে মারামারি (জখম) সংক্রান্ত মামলা ছিল ৮৯০টি। কিন্তু যাচাই-বাছাই ও মামলা পৃথক করার উদ্যোগ নেওয়াতে ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত অন্যান্য খাতে মামলা হয় ৯২৫টি। এর মধ্যে মারামারির মামলার সংখ্যা ৬৩৫। যাচাই-বাছাইয়ের কারণে মিথ্যা ও সাজানো মারামারির মামলার হয়রানি থেকেও রেহাই পান সাধারণ মানুষ।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, অন্যান্য খাতের মামলায় অনেক ধরনের মামলা ছিল। এর মধ্যে মারামারির মামলাই বেশি। এসব মামলার অনেকগুলোই ছিল মিথ্যা ও সাজানো। এতে হয়রানির শিকার হন সাধারণ মানুষ। কারণ মামলা করার সময় একসঙ্গে অনেক মানুষকে জড়ানো হয়। কিন্তু মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও যাচাই-বাছাই করার উদ্যোগ নেওয়ার পর সংখ্যা কমতে থাকে। একটি মামলায় যদি ১০ জনকেও জড়ানো হয় তাহলে ২৫৫টি মামলা থেকে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ বেঁচে গেছেন।

পুলিশ সুপার জানান, মৌলভীবাজারে মামলা বিশ্লেষণের এই উদ্যোগ সিলেট রেঞ্জের সব জেলার অপরাধ বিশ্লেষণে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে অন্যান্য জেলাতেও মারামারির মামলা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ছক পরিবর্তনের প্রস্তাবটি পুলিশ প্রধানের কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই সারা দেশে উত্তম চর্চা হিসেবে এটি গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0