গতবারের চেয়ে মজুরি বাড়লেও মুখ মলিন আকবর হোসেনের। তিনি বলেন, ‘সব জিনিসপাতির দাম মঙ্গা। সংসারত অভাব। একলার কামাই দিয়ে কুলাবার পারিচ্চি না। ঈদে বউ ছলক লতুন পিরান কিনে দিবার পারিনি। শিওই (সেমাই), চিনি কিনবার পারিনি। অভাব কষ্টে ঈদের দিনত ধান কাটার কিষান খাটপার জন্যি ঈদ বগুড়াত আসিচি।’

কথায় কথায় দিনমজুর আকবর হোসেন বলেন, ‘বাজারত সব জিনিসপাতির দামে আগুন। আগে ৫০০ টেকা লিয়ে বাজারে গেচি। ব্যাগভরা সদাই লিয়ে বাড়িতে ফিরচি। এখন এক হাজার টেকা লিয়ে বাজারত গেলেও ব্যাগের অর্ধেক ভরে না। চাল, ডাল, তেল কিনতেই টেকা শ্যাষ। মাস-মাংস কিনবার পারি না।’

আকবর হোসেন আরও বলেন, ‘১২ বছর বয়স থ্যাকে কামলার কাম করিচ্চি। ২০ বছর আগত ৪০ টেকা কামাই দিয়ে সংসার চলিচে। এখন দিনে ৮০০ টেকা কামাই দিয়েও সংসার চলাবার পারি না। কয় দিন আগতও এক পোয়া তেল কিনচি ২৫ টেকা দিয়ে। এখন এক পোয়া তেল কিনতেই লাগে ৬০ টেকা।’

ঈদের দিন পরিবার–পরিজন ছেড়ে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মালিপাড়া গ্রাম থেকে বোরো ধান কাটতে বগুড়ায় এসেছেন কৃষিশ্রমিক সাইফুল ইসলাম (৪০)। তিনি বলেন, ‘লিজের কোনো জায়গা জমিন নাই। কোনো রকমে কামলা দিয়ে খাই। সংসারত অভাব। আগে জিনিসপাতির দাম কম আচিল। অল্প টেকা লিয়ে হাটত গেলে ব্যাগ ভরে সদাই মিলত। এখন ৫০০ টেকা লিয়ে হাটত গেলেও ব্যাগের অর্ধেক ভরে না। এক কেজি গরুর মাংস কিনবার গেলে এক দিনের মজুরির টেকা লাগে। এক লিটার তেল কিনবার গেলে এক দিনের কামাইয়ের অনেক যায়। গরিবের কথা কেউ চিন্তা করে না। হামরা বাঁচমো ক্যাম্বা করে?’

মালিপাড়া থেকে ঈদের দিন ধান কাটতে বগুড়ায় এসেছেন দিনমজুর আবু হানিফ (৪৭)। তিনি বলেন, ‘সংসারত অভাব। সব জিনিসের দাম মঙ্গা। সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। বউ-ছলের জন্য ঈদের দিন ধান কাটপার এত দূর আসচি। এইবার ঝড়ত ধান খ্যাতের ক্ষতি হইচে। ধানগাছ খ্যাতত পড়ে গেইচে। কাটা আগাচ্চে না। কাটতেও কষ্ট হচ্চে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন