default-image

ট্রাকচালক রনি পাঠানকে (২৪) বাড়ি থেকে ডেকে এনেছিলেন অন্যদিনের মতোই ‘ড্যান্ডি’–জাতীয় (আঠা) নেশা করার জন্য। পরে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কথা-কাটাকাটিতে জড়ান তাঁরা। একপর্যায়ে তাঁরা রনিকে চাকু দিয়ে জখমের পর গলা কেটে হত্যা করেন। পরে আলামত লুকাতে লাশ কাদামাটিতে পুঁতে রেখে পালান এলাকা ছেড়ে।

এই হত্যাকাণ্ডের ১২ ঘণ্টার মধ্যে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত মো. সুজন সরদার (২২) ও মো. জীবন শেখকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাইনবোর্ড এলাকার একটি পোশাক কারখানা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। সুজন ও জীবন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

নিহত রনি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার আদর্শ গ্রামের আবদুল মতিন পাঠানের ছেলে। তিনি ট্রাক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গ্রেপ্তার সুজন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড সাকের ফকিরপাড়ার মজিবরের ছেলে এবং জীবন ময়ছের মাতুব্বরপাড়ার মজিবর শেখের ছেলে।

এই হত্যাকাণ্ডের ১২ ঘণ্টার মধ্যে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত মো. সুজন সরদার (২২) ও মো. জীবন শেখকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশ ও পরিবার জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ট্রাক চালিয়ে বাড়ি ফেরেন রনি। সন্ধ্যায় ট্রাকমালিক লতিফ শেখের কাছ থেকে টাকা আনতে বের হন। ফেরার সময় সহকারী জাহিদকে সঙ্গে করে কুমড়াকান্দি গ্রামের হাবিবের চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সুজন ও জীবন মোটরসাইকেল নিয়ে এসে দাওয়াতের কথা বলে রনিকে নিয়ে যান। রাতে বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজ করতে থাকেন। জানতে পারেন, সুজন ও জীবন ডেকে নিয়ে গেছেন রনিকে। তাঁদের বাড়িতে খোঁজ নিলে জানতে পারেন, তাঁরাও বাড়িতে নেই। এরপর তিনজনেরই খোঁজ পাচ্ছিলেন না তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

দুই দিন পর শনিবার বিকেলে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বদিউজ্জামান ব্যাপারী পাড়ার মজিবর রহমান মাস্টারের পুকুরপাড় দিয়ে যাওয়ার সময় রনির ভাই রানা পাঠান দুর্গন্ধ পেয়ে এগিয়ে কাদামাটিতে মাছি ঘেরা স্থান দেখতে পান। কাছে গিয়ে দেখেন, মাটি শুকিয়ে মানুষের মতো মৃতদেহ বেরিয়ে আসছে। মাটি সরিয়ে দেখতে পান, আপন ছোট ভাই নিখোঁজ রনির মৃতদেহ। মৃতদেহ থেকে মাত্র ১০ ফুট দূরে দূর্বাঘাসে রক্তের দাগ লেগে আছে।

থানায় হত্যা মামলা দায়েরের ১২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আজ সোমবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল তায়াবীর, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), গোয়ালন্দ ঘাট থানা

খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল করার সময় দেখতে পায় রনির গলাকাটা। পেট, পিঠসহ বিভিন্ন স্থানে ধারালো চাকুর আঘাতের দাগ আছে। রোববার গভীর রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ফিরেই অভিযানে নামে পুলিশ। গোয়ালন্দের পদ্মার মোড় বেইলি সেতুর নিচ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়।

সুজন ও জীবন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, ঘটনার দিন রনিকে ডেকে পুকুরপাড়ে নেন তাঁরা। মাঝেমধ্যে রনিসহ সুজন, জীবন ও জুয়েল চারজন মিলে ‘ড্যান্ডি’ (আঠা) দিয়ে নেশা করতেন। ওই দিন নেশা করার একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি হলে উত্তেজিত হয়ে জুয়েল ধারালো চাকু দিয়ে কয়েকটি আঘাত করেন। নিস্তেজ হয়ে পড়লে সুজন ওই চাকু দিয়ে গলা কেটে রনির মৃত্যু নিশ্চিত করেন। তিনজন মিলে কাদামাটি খুঁড়ে লাশ পুঁতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, থানায় হত্যা মামলা দায়েরের ১২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আজ সোমবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাঁরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে পারেন। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন