আরিফুলের ভাই শরিফুল ইসলাম আজ সকালে প্রথম আলোকে জানান, হাফিজুর ও আরিফুলের জন্ম ও বেড়ে ওঠা একসঙ্গে, একই বাড়িতে। ছোট থেকে তাঁরা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পড়ালেখা শেষে হাফিজুর আরএফএল কোম্পানির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক হিসেবে গাজীপুরে ও আরিফুল এরিস্ট্রোফার্মা ঢাকায় একই পদে কর্মরত ছিলেন।

শুক্রবার সকালে আরিফুল গাজীপুরে এসে হাফিজুরকে নিয়ে একই মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। টাঙ্গাইল-মির্জাপুর মহাসড়কের জামুর্কি এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি গাড়ি তাঁদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই হাফিজুরের মৃত্যু হয়। আহত আরিফুলকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে গতকাল রাতে তাঁদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। আজ শনিবার বেলা ১১টায় গ্রামের মাঠে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় কেশভবাড়িয়াসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ অংশ নেন। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়।

শনিবার সকালে কেশভবাড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের আনন্দ ভুলে গ্রামের সবাই মাঠে জানাজার জন্য ছুটছেন। ঈদগাহ মাঠ সাজানোর প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু শোকের কারণে সাজসজ্জা স্থগিত রয়েছে।

নিহত হাফিজুর রহমানের বাবা হায়দার আলী বলেন, হাফিজুরের সাত বছরের একটি ছেলে ও আরিফুলের সাড়ে তিন বছরের একটি ছেলে আছে। ঈদে বাবা-চাচা বাড়িতে আসবে, এমন অপেক্ষার প্রহর গুনছিল। অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়েছে, বাবা-চাচা এসেছেন। কিন্তু তাঁদের নিথর দেহ দেখে তারাও বাক্রুদ্ধ। পরিবারের সবাই কাঁদছেন। কাউকে সান্ত্বনা দেওয়ার কেউ নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন