বিজ্ঞাপন

বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ি তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আটক সাইফুল টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকার নুর হোসেনের ছেলে। সাইফুল তাঁর চাচাতো ভাই সিএনজিচালক নুর আহমদের গাড়িতে করে টেকনাফের হ্নীলা আলিখালী এলাকা থেকে পেটের ভেতরে করে ইয়াবা নিয়ে যাচ্ছিলেন। ইয়াবা পাচারের কথা প্রথমে তিনি অস্বীকার করেন। এক্স-রে করার আগমুহূর্তে তিনি স্বীকারোক্তি দেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

আটক সাইফুল পুলিশকে জানান, তিনি ১ হাজার ২০০টি ইয়াবার ২৪টি পোঁটলা গিলে খেয়েছেন। এভাবে প্রতিটি পোঁটলায় ৫০টি করে ইয়াবা বিশেষ কায়দায় তাঁর পেটে রয়েছে।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাহারছড়া-হোয়াইক্যং সড়কের পাহাড়ি ঢাল হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ইয়াবার একটি চালান পাচারের তথ্য পায় পুলিশ। সেই সূত্র ধরে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ি তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ উপপরিদর্শক (এসআই) শফিউল আলম ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জামাল মীরকে নিয়ে ঢালারমুখ এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় সন্দেহভাজন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটক করে সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁর পেটের ভেতরে ইয়াবা রয়েছে বলে স্বীকারোক্তি দেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁকে স্থানীয় কেয়ার ল্যাবে এক্স-রে পরীক্ষা করা হলে পেটের ভেতর ইয়াবার সন্ধান পাওয়া যায়।

আটক সাইফুল পুলিশকে জানান, তিনি ১ হাজার ২০০টি ইয়াবার ২৪টি পোঁটলা গিলে খেয়েছেন। এভাবে প্রতিটি পোঁটলায় ৫০টি করে ইয়াবা বিশেষ কায়দায় তাঁর পেটে রয়েছে।

জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র শীল প্রথম আলোকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় পুলিশ সন্দেহভাজন একজন মাদক কারবারিকে যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে তাঁকে এক্স-রে করা হলে তাঁর পেটের ভেতর কিছু একটা রয়েছে শনাক্ত করা হয়। পরে সন্দেহভাজন ওই যুবককে কলা-পাউরুটির পাশাপাশি ওষুধ খাওয়ানোর পর বমির মাধ্যমে ও পায়ুপথ দিয়ে রাত ৩টার দিকে ২৪টির মধ্যে ১৮টি পোঁটলা বের করতে সক্ষম হন তাঁরা। আজ শুক্রবার সকালে ওই যুবককে আবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হলে তাঁর শরীরে আরও কিছু নমুনা শনাক্ত হওয়ায় তাঁকে পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। চিকিৎসক টিটু চন্দ্র শীল বলেন, ‘এটি মারাত্মক জীবনের ঝুঁকি। এভাবে ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন মারাও গেছেন।’

পুলিশ পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ বলেন, এ পর্যন্ত ওই যুবকের পেটের ভেতর থেকে ১৮টি পোঁটলায় ৯০০ ইয়াবা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আরও ৬টি পোঁটলায় ৩০০ ইয়াবা বড়ি তাঁর পেটের ভেতরে রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন