বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে কথা বলতে জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। পরে কথা হয় সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিনের সঙ্গে। প্রথম আলোকে তিনি জানান, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা ও ধাওয়া চলাকালে অস্ত্র হাতে যে তরুণকে গুলি করতে দেখা গেছে ভিডিওতে, তাঁকেসহ অপরাপর অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করার জোর চেষ্টা চলছে। শিগগিরই ফলাফল পাওয়া যাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিন জানান, রোববার দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা ও ধাওয়ার ঘটনায় থানায় কোনো পক্ষ মামলা করেনি। তা ছাড়া পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে দুই পক্ষকে দুই দিকে সরিয়ে দিয়ে শহরের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখেছে। তাই পুলিশ বাদী হয়ে এ বিষয়ে কোনো মামলা করেনি।

এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে অস্ত্রধারীর প্রকৃত সংখ্যা চার। এর মধ্যে তিনজন ছিলেন সড়কের ওপর, আরেকজন ছিলেন সড়কের পূর্ব পাশের ফুটপাতের ওপর। সড়কের ওপর থাকা তিন অস্ত্রধারীর মধ্যে সাদা জামা পরা একজন প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়েন। বাকি দুজনের মধ্যে রঙিন টি–শাট পরা একজন ও খয়েরি জামা পরা আরেকজন গুলি করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রতিপক্ষের ধাওয়ার মুখে পালিয়ে যান। একই সময় সাদা জামা পরা আরেকজন সড়কের পূর্ব পাশের ফুটপাতের ওপর দিয়ে দৌড়ে দক্ষিণ দিকে পালিয়ে যান।

অন্যদিকে জেলা শহরে দিনদুপুরে অস্ত্র নিয়ে একই দলের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর গুলি ছোড়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন জেলার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও। এ প্রসঙ্গে আলাপকালে জেলা বারের সাবেক সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোল্লা হাবিবুর রাছুল আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, অস্ত্রধারীরা নিশ্চয় বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি পক্ষের সদস্য। এটি তাঁদের রাজনৈতিক দলের জন্য যেমন শুভ নয়; এটা নোয়াখালীবাসীর জন্য, আইনশৃঙ্খলার জন্যও শুভ হতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শিগগির তাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এটাই প্রত্যাশা।

একই বিষয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (প্রান) প্রধান নির্বাহী নুরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাজনীতিকদের। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে এখানে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তাতে নোয়াখালী শহরের বাসিন্দারা আতঙ্কিত। করোনা–পরবর্তী সময়ে জেলা শহরের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট খুলেছেন কেবল, তখনই দুই পক্ষের মহড়ার কারণে অনেকে দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ঘোষিত সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীসহ পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদনের দাবিতে সোমবার সকাল ১০টায় জেলা শহরের কার্যালয়ে সমাবেশের ডাক দেন সাংসদ একরামুলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ। একই সময় কার্যালয় থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে টাউন হল মোড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশ আহ্বান করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন। আবার একই সময়ে নোয়াখালী পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে পৌর মিলনায়তনে আলোচনা সভা ডাকেন শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদ উল্যাহ খান।

স্থানীয় লোকজন জানান, সমাবেশের আগাম প্রস্তুতি উপলক্ষে সাংসদ একরামুলের অনুসারীরা রোববার বিকেল সাড়ে চারটায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে। একই সময় জামে মসজিদ মোড় এলাকায় একটি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে আসেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিনের অনুসারীরা। এ সময় একরামুলের অনুসারীরা শিহাবের অনুসারীদের ওপর হামলা চালান। একই সময় পৌর মেয়র শহিদ উল্যাহ খানের অনুসারীরাও একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে টাউন হলের মোড়ে আসেন। এ সময় একরামুলের অনুসারীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান। পরে পুলিশ একরামুলের দুই প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন