বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গোবরিয়া-আবদুল্লাহপুর ইউপিতে নৌকার প্রার্থী এনামুল হক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তবে মনোনয়ন না পেয়ে এখানে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থেকে যান। তাঁরা হলেন মো. আব্বাস উদ্দীন। তিনি বর্তমান চেয়ারম্যান। তাঁর প্রতীক চশমা। ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। টেলিফোন প্রতীক নিয়ে আছেন মো. নিয়ামুল হক। মোটরসাইকেল প্রতীকে মো. সাইফুল ইসলাম। সাইদুজ্জামান লড়ছেন আনারস প্রতীক নিয়ে।

আওয়ামী লীগের পাঁচ বিদ্রোহী ছাড়াও চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালা উদ্দিন খান, জাতীয় পার্টির মুসলেহ উদ্দিন ও ইসলামী আন্দোলনের নাছির উদ্দিন।

এনামুল বলেন, ‘বিদ্রোহী থাকায় নির্বাচনে চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে, আবার এক ইউপিতে এত বিদ্রোহী থাকাটা দলের শৃঙ্খলার জন্য হুমকি। কোনোভাবেই মনে করি না আমার প্রতিপক্ষ আমার দলের এতজন হবে। এ ক্ষেত্রে দলীয় নেতৃত্বের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। দলের অনেকে অনেকের সঙ্গে প্রকাশ্যে বা গোপনে কাজ করছেন। এই অবস্থা থেকে বের করে আনা না গেলে সমস্যা।’

খোঁজ নিয়ে গেছে, দলের প্রতি দলীয় প্রার্থীর নাখোশ হওয়ার বিষয়টি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের দৃষ্টিতে এসেছে। ইউনিয়নটিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বের দুর্বলতার বিষয়টিও উপজেলা নেতাদের কাছে এখন স্পষ্ট। বেশির ভাগ নেতা-কর্মী দলীয় প্রার্থীর পক্ষে না থাকার বিষয়টিও অজানা নয়। এ রকম বাস্তবতায় দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত বৃহস্পতিবার গোবরিয়া-আবদুল্লাহপুর হাইস্কুল মাঠে সভা করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইমতিয়াজ বিন মুছা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইয়াছির মিয়াসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভার বক্তব্য থেকেও দলের প্রার্থীর পক্ষে দলীয় নেতারা না থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
এদিকে পাঁচ বিদ্রোহী প্রার্থী দলীয় দুর্বলতাকে খুব ভালোভাবে কাজে লাগাচ্ছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, জনপ্রিয়তা বিবেচনায় না রেখে নৌকা দিলে কী হতে পারে—ইউনিয়নবাসী তা দেখতে পারবে ২৮ নভেম্বর।

বর্তমান চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দীনের ভাষ্য, ‘গেল বার চেয়েও মনোনয়ন পাইনি। শেষে বিদ্রোহী হিসেবে জয় নিয়ে এসেছি। পরীক্ষায় পাস করার পর এবারও একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে। এটা শুধু আমি মেনে নিতে পারিনি, এমন নয়। দলের অনেকে মেনে নিতে পারেননি বলে একটি অংশ আমার সঙ্গে রয়েছেন।’

সাইদুজ্জামান বলেন, ‘কী বলব, দলের প্রার্থীর সঙ্গে তো এখন দলের কেউ নেই। আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।’

নুরুল ইসলাম জানালেন, ‘এই মুহূর্তে নৌকার ভোট নেই, তবে জোর আছে। জোর দিয়ে আমাদের পোস্টার ছেঁড়া এখন নৌকার সমর্থকদের কাজ হয়ে গেছে।’

নিয়ামুল হক বলেন, ভোট থেকে সরে যাওয়ার যতই দলীয় চাপ আসুক না কেন, শেষ পর্যন্ত ভোটে থেকে গিয়েই প্রমাণ করবেন, তাঁকে নৌকা না দিয়ে কতটা ভুল করেছে দল।

গোবরিয়া-আবদুল্লাহপুর ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহীর আধিক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইমতিয়াজ বিন মুছা বলেন, ‘দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে, তিনি ভোটে থাকবেন, আর অন্যরা তাঁর পাশে থাকবে। কিন্তু গোবরিয়া-আবদুল্লাহপুর ইউপিতে বিষয়টি একদম উল্টো হয়েছে। যাঁরা দলের বাইরে যাবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করব শান্তিপূর্ণ সমাধানের। দেখা যাক, বিদ্রোহী কমিয়ে আনা যায় কি না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন