default-image

রোজা শুরুর হতে না-হতেই পাবনার সুজানগর উপজেলার হাটবাজারে সবজির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। পটোল, ঝিঙা ও করলাসহ বিভিন্ন সবজি বিক্রি হচ্ছে কয়েকগুণ দামে। অন্যদিকে পড়ে গেছে পেঁয়াজের দাম। ওই এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পটোলসহ অন্যান্য এক কেজি সবজির দামে মিলছে চার কেজি পেঁয়াজ। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন ওই এলাকার পেঁয়াজচাষিরা। সেই সঙ্গে সবজি কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

মঙ্গলবার সকালে সুজানগর পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ভালো মানের প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ টাকা দরে। অন্যদিকে পাটোল, ঝিঙা, করলা, বরবটিসহ অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় গাজনার বিল বেষ্টিত সুজানগর উপজেলায়। গত মৌসুমে উপজেলাটিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছিল ১৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন। তবে মৌসুমের শুরু থেকে বাজারে পেঁয়াজের দাম কম থাকায় অধিকাংশ কৃষক পেঁয়াজ বিক্রি না করে বেশি দামের আশায় মজুত রেখেছিলেন। কিন্তু বাজারে এখনো পেঁয়াজের দাম বাড়েনি। অন্যদিকে রোজা শুরুর আগে থেকেই বাজারে পটোল, ঝিঙা, করলাসহ প্রতিটি সবজির দাম বেড়ে গেছে। এর ফলে কৃষক এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এক দিনের বাজারও করতে পারছেন না।

উপজেলা সদরের কুড়িপাড়া গ্রামের পেঁয়াজচাষি আফতাব আলী বলেন, তিনি পাঁচ বিঘা পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। জমি থেকে পেঁয়াজ পেয়েছেন প্রায় আড়াই শ মণ, বর্তমান বাজারে যার দাম ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। পরিবহন ও নিজের শ্রম বাদ দিলে কিছুই লাভ থাকছে না।

মানিকহাট গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, সবজি, মাছ, মাংসসহ বাজারে প্রতিটি পণ্যের দামই ঊর্ধ্বমুখী। জীবন চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদরের বাসিন্দা রিপন হোসেন বলেন, ‘কোনো কিছুতেই যেন ব্যালেন্স থাকছে না। বাজারদর, আয়ের সঙ্গে ব্যয়, ব্যয়ের সঙ্গে আয় সবই এখন গরমিল।’

এ প্রসঙ্গে সুজানগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মইনুল হক বলেন, উৎপাদন খরচের কারণে বাজারে সবজির দাম একটু বেশি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কৃষককে এক ফসলে আটকে না থেকে একাধিক ফসল আবাদ করতে হবে। এতে একটায় ক্ষতি হলে অন্যটায় লাভ মিলবে। অন্যদিকে বেশি আবাদ হলে দামেই স্থিতিশীলতা থাকবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0