বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শাহরুখ-২–এর মালিক এই প্রতিবেদকের কাছে গত বুধবার দুপুরে বলেন, লঞ্চটি তাঁরা এমকে শিপিংয়ের মাসুম খানের কাছে মাসিক ১০ লাখ টাকায় ভাড়া দিয়েছেন।

এ নৌপথের বাকি দুটি লঞ্চের মধ্যে এমভি ফারহান-৮–এর মালিক সাংসদ গোলাম কিবরিয়া এবং অগ্নিদুর্ঘটনাকবলিত এমভি অভিযান-১০–এর মালিক হামজামাল শেখসহ চারজন।

এ পথের নিয়মিত কয়েক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন দুটি লঞ্চ চলার কথা থাকলেও প্রায়ই একটি লঞ্চ চলে। গাদাগাদি-ঠাসাঠাসি করে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন তাঁরা। কেবিন চেয়েও পান না। ছয় বছর ধরে একচেটিয়া ব্যবসা করছে মাসুম খানের কোম্পানি।

এ সম্পর্কে বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক হাসানুর রহমান বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকেই অনিয়ম করে তাঁরা বিশেষ সুবিধা নিয়ে নৌপথটি এমন করে ফেলেছেন। এক মালিকের পাঁচটি লঞ্চ থাকুক, তাতে অসুবিধা নেই। সে ক্ষেত্রে অন্য মালিক যাঁরা আছেন, তাঁদেরও সুযোগ দেওয়া উচিত। একাধিক লঞ্চ না থাকায় যাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে।

‘লঞ্চ ভাড়া দাও, নয় বেচে দাও’

বরগুনা-ঢাকা নৌপথে এমকে শিপিংয়ের দাপটে অন্য কোনো মালিক এ পথে লঞ্চ চালাতে এসে টিকতে পারছেন না। ফলে অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে, ‘হয় লঞ্চ তাঁদের কাছে ভাড়ায় দাও, নয় তো বেচে দাও।’ বিগত কয়েক বছরের ইতিহাস ঘেঁটে এমন নজিরই পাওয়া যায়।

২০১৫ সালের দিকে বরগুনা-ঢাকা নৌপথে চারটি লঞ্চ চলাচল করত। এগুলো ছিল এমভি যুবরাজ-২, যুবরাজ-৪, কিং সম্রাট ও মৌসুমী-২। এর মধ্যে যুবরাজ–২, ৪ ও কিং সম্রাট লঞ্চের মালিক ছিলেন ঢাকার আওলাদ হোসেন। এমভি টিপু-৩–এর মালিকানা ছিল সাংসদ গোলাম কিবরিয়ার। ২০১৫ সালের শেষ দিকে এমভি টিপু-৩ লঞ্চটি কিনে নেন এমকে শিপিং কোম্পানির মালিক মাসুম খান। পরে সেটির নাম বদলে হয় মৌসুমী-২। ওই লঞ্চ দিয়েই এমকে শিপিং বরগুনা নৌপথে লঞ্চ ব্যবসায় নামে। পরে আওলাদ হোসেন তাঁর মালিকানাধীন যুবরাজ-২ ও ৪ বিক্রি করে দেন। লঞ্চ দুটি কিনে নেন এমকে শিপিংয়ের মাসুম খান। সুন্দরবন-২ নামের একটি লঞ্চের মালিক প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ২০১৮ সালে এমকে শিপিংয়ের মাসুম খানের কাছে লঞ্চটি বিক্রি করে দেন। এরপর এ নৌপথের লঞ্চ ব্যবসায় এমকে শিপিংয়ের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। তারা দুটির বদলে প্রতিদিন একটি লঞ্চ চালাতে শুরু করে।

সুন্দরবন-২ লঞ্চের মালিক পান্না মিয়া বলেন, ‘মাসুম খানের সঙ্গে ব্যবসা করলে মান–ইজ্জত থাকবে না, তাই বাধ্য হয়ে লঞ্চটি বিক্রি করে চলে এসেছি।’

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এমভি অভিযান-১০ ও মার্চের দিকে ফারহান-৮ নামের দুটি লঞ্চ বরগুনা থেকে বেলা তিনটা ও ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা আগের সেই সময়সূচি নিয়ে পুনরায় সার্ভিস চালু করে। এতে এমকে শিপিংয়ের লঞ্চগুলো প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে। এরপর শুরু হয় গতির লড়াই—কে কার আগে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে এমকে শিপিং লাইনসের মালিক মাসুম খান বলেন, ‘মূলত এ রুট আমরা জনপ্রিয় করেছি। আমার সেবা ও লঞ্চের মান ভালো, তাই যাত্রীও বেশি। আগে লঞ্চ থেকে যারা চাঁদা তুলতেন, এখন স্থানীয় প্রশাসন ও সাংবাদিকদের প্রতিবেদনের কারণে তা পারে না। তাই ওই বিশেষ ব্যক্তিরা নতুন লঞ্চ এনে আয়ের পথ করতে চেষ্টা চালিয়েছে। তবে ব্যর্থ হয়ে আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন