মাসুদা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ২৫ বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁর এক ছেলে আছে, মাদ্রাসায় পড়ে। ১০ বছর আগে স্বামী তাঁকে ছেড়ে গেছেন। এরপর থেকে একটি রেস্তোরাঁয় পেঁয়াজ কাটার কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। তাঁর নিজের কোনো ঘর নেই। থানাবাজার এলাকার যে বাসায় এক হাজার টাকায় ভাড়া থাকতেন, সেখানে বন্যায় গলাপানি ছিল। বন্যায় আশ্রয় হারিয়ে তিনি ঠাঁই নিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। বন্যায় রেস্তোরাঁটি বন্ধ হয়ে হারিয়েছেন কাজও।

default-image

মাসুদা বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রে সাহায্য পাইয়া চলছি এত দিন। এখন ইশকুলের স্যাররা কইছইন, আইজ-কাইল আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়তে হইব। কই যাইমু, কী খাইমু, চিন্তায় ভালা লাগতাছে না। আইজ ঈদ। ভালামন্দ কুনতা খাইতামও পারতাছি না। সেমাই, চিনি কুনতাই পাইছি না। এক টুমা গরুর গোশত পাইলে ভালা হইত। সবার ঈদ থাকলেও আমরার ঈদের খুশি নাই।’

অন্যদিকে পঞ্চাশোর্ধ্ব মিনারা জানান, গত ১৫ জুন রাতে হু হু করে বন্যার পানি বাড়তে থাকে। এক রাতের ব্যবধানে তাঁদের চালসমান পানি হয়। স্বামী-সন্তানদের নিয়ে রাতেই আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেন। বন্যায় তাঁদের ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পানি নেমে যাওয়ায় আজই তাঁরা ঘরে ফিরবেন।

মিনারার স্বামী মো. সুলেমান মিয়া (৬৩) দিনমজুর। তাঁদের বাড়ি উপজেলার উত্তর বুড়দেও গ্রামে। এই দম্পতির চার ছেলের মধ্যে দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা থাকেন। মিনারা জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকায় এত দিন নানা খাদ্যসামগ্রী পেয়েছেন। এখন ঘরে ফিরে কীভাবে চলবেন, তা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না।

মিনারা বলেন, ‘কেমনে যে বাঁইচা আছি, সেইটা আল্লায় জানে। পানি সময়ে সময়ে বাড়তে থাকে। একটা নৌকাত করি পরিবার নিয়া কুনুরকমে আইছি। তান (মিনারার স্বামী) দুইটা গরুরে ধইরা রাখছিলা আইবার সময়, আমি সাঁতার জানি না। তানরে কইলাম, আমি তো ভাইসা যাইমু, আমারে ধরইন। তান গরু দুইটা ছাইড়া দিয়া, আমারে ধরলা। গরু দুইটা ভাসি গেছে। এইগুলাই আমরার শেষ সম্বল আছিল। ভাবছিলাম, কোরবানির ঈদে ওই গরু দুইটা বেঁইচা ঘরে আস্তর করমু। এখন ইটের গাঁথুনিই বন্যার পানি ভাইঙা নিছে, গরুও নিছে।’

মিনারা বলেন, ‘ইউএনও সাব সেমাই, চিনি দিছইন গতকালকে। মনে শান্তি নাই, এইগুলা রানছি (রান্না) না। রান্ধিয়া যে খাইতাম, সেটাও মনে চাইতাছে না। আইজ ঈদের দিনেও ঘরছাড়া আছি। একেবারেই শান্তি নাই মনে। কবে যে মনে শান্তি ফিরব, জানি না!’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন