বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
গুরুতর অসুস্থ হলে ‌এই উপজেলার বাসিন্দাদের ছুটতে হয় গলাচিপা, নয়তো কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ভোগান্তিতে পড়েন তাঁরা।

পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে রাঙ্গাবালীর অবস্থান। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে আগুনমুখা নদী, পূর্বে বুড়াগৌরাঙ্গ ও পশ্চিমে রাবনাবাদ নদ–নদী বেষ্ঠিত দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী। ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এই উপজেলার প্রতিষ্ঠা। প্রায় এক দশকেও রাঙ্গাবালীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হয়নি। গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে এই উপজেলা।

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে জানা গেছে, ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী, রাঙ্গাবালী উপজেলায় জনসংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৩১২ জন। এখানে চিকিৎসাসেবার জন্য রয়েছে চারটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এই পাঁচ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঁচজন চিকিৎসকের পদ থাকলেও আছেন তিনজন। তবে এই তিনজনই বর্তমানে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

অপর দিকে চারটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র লোকবল না থাকায় বন্ধ রয়েছে। অপর তিনটি রাঙ্গাবালী সদর, ছোটবাইশদিয়া ও চরমোন্তাজ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ছয়জন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্বাস্থ্য সহকারী) থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন চারজন। এর মধ্যে রাঙ্গাবালী সদরে দুজন এবং অপর দুটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দুজন।

১ নভেম্বর সকালে রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সরেজমিনে দেখা যায়, সেখানে সেবা দিচ্ছেন উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা রেজাউল করিম। সেবা নিয়ে এসেছেন হালিমা বেগম (৩০) নামের এক নারী। তাঁর বাড়ি রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া গ্রামে। তিনি বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট কমে না। এইহানে আইলে বড় ডাক্তার দেখাইতে কয়। কিন্তু হেইয়া দেহাইতে শহরে যাওয়া লাগে। গরিব মানুষ। কেমনে যাই শহরে। এই হানে বড় ডাক্তার দিলে আমাগো মতন গরিবেরর উপকার হইবে।’ গঙ্গীপাড়া গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে এসেছেন অন্তঃসত্ত্বা রাহিমা বেগম (৩৬)। তাঁকেও পটুয়াখালী গিয়ে গাইনি চিকিৎসক দেখাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা (স্বাস্থ্য সহকারী) রেজাউল করিম বলেন, এখানে তাঁরা শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন। জটিল রোগী এলে তাঁদের গলাচিপা, কলাপাড়া অথবা পটুয়াখালীতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে ৬০–৭০ জন নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগী আসছেন। এখানে দুজন উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা ও দুজন এলএমএসএস রয়েছেন। এ দিয়েই চলছে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। এ ছাড়া রাঙ্গাবালী উপজেলায় ১২টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে এবং সেখানে কর্মরত আছেন ১০ জন কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার। দুটি পদ শূন্য রয়েছে।

গলাচিপা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চিকিৎসক পদায়ন হয় বহির্বিভাগভিত্তিক। রাতে থাকার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় রাঙ্গাবালীর চিকিৎসকদের গলাচিপাতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া রাঙ্গাবালী উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম গলাচিপা উপজেলা থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে রাঙ্গাবালীর রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে গলাচিপাতে আসছেন। রাঙ্গাবালীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হলে সেখানেই লোকজনকে আধুনিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

রাঙ্গাবালীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে পাঁচ একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। ভূমি অধিগ্রহণ শেষে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন