default-image

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের প্রায় দেড় বছর পর আগামীকাল সোমবার পুনরায় চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীদের ভোট গণনার সিদ্ধান্ত ছিল। তবে এক দিন আগে তা স্থগিত হয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন ট্রাইব্যুনাল থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়ে বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম।

গত বছরের ১৮ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঘোষিত ফল বাতিল এবং ভোট পুনর্গণনার আদেশ চেয়ে নির্বাচন কমিশন ট্রাইব্যুনালে মামলা ঠুকে দেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী তানিয়া সুলতানা। মামলাটি হয় গেল বছরের ১৭ জুলাই। তানিয়া কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন ট্রাইব্যুনালের এক আদেশে সোমবার সকাল নয়টা থেকে ট্রাইব্যুনাল কার্যালয়ে ভোট গণনা করার কথা ছিল।

এদিকে ট্রাইব্যুনালের আদেশ স্থগিত চেয়ে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজয়ী প্রার্থী মো. মুশতাকুর। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এই সিদ্ধান্তের কথা তিনি লিখিতভাবে ট্রাইব্যুনালকে জানিয়ে রেখেছেন। মুশতাকুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে শেষে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, কটিয়াদী উপজেলা নির্বাচন হয় গেল বছরের ২৪ মার্চ। ওই সময় অভিযোগ ওঠে, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকেরা ভোটের আগের রাতেই বেশ কয়েকটি কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দিয়ে বাক্স ভর্তি করে রাখেন। ভোটের দিনও বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিত নির্বাচন কমিশনার ওই উপজেলার ভোট স্থগিত করে দেয়। পরবর্তী সময়ে ভোট হয় ওই বছরের ১৮ জুন। ফলাফলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর চেয়ে ১ হাজার ১০ ভোট বেশি দেখিয়ে মুশতাকুরকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ফলাফল বিবরণীতে দুই ধরনের তথ্য ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ফলাফলে বাতিল ভোট দেখানো হয় ২ হাজার ১৬৫। আর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত বিবরণীতে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭৩১ ভোট। দুই ধরনের তথ্য থাকায় ঘোষিত এই ফলাফলে অনাস্থা জানিয়ে প্রতিকার পেতে প্রথমে উচ্চ আদালতে রিট করেন তানিয়া। পরবর্তী সময়ে পুনর্গণনার আবেদন করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

তানিয়া সুলতানা বলেন, ‘আগেও বলেছি, এখনো বলছি, গণনায় অস্বচ্ছতার ছাপ স্পষ্ট ছিল। তাই আমি ট্রাইব্যুনালে গিয়েছি। ট্রাইব্যুনাল আমার চাওয়ার গুরুত্ব দিয়েছে। এখন ফলাফলের অপেক্ষা।’

মো. মুশতাকুর বলেন, নির্বাচনী প্রতিপক্ষের (তানিয়া) আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার আছে। তিনি নিয়েছেন। আবার আদেশের বিরুদ্ধেও আইনি লড়াইয়ের সুযোগ রয়েছে। তিনিও আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ওই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরবর্তী উদ্যোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালকে লিখিতভাবে জানিয়ে রেখেছেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, সোমবার গণনা হচ্ছে না। ট্রাইব্যুনাল থেকে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন স্থগিত হলো, তা-ও জানা যায়নি। তবে সোমবার গণনার নতুন তারিখ জানিয়ে দেবেন ট্রাইব্যুনাল।

মন্তব্য পড়ুন 0