default-image

পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির হাবিবুর রহমান। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

হাবিবুরের অভিযোগ, তাঁকে রুখতে ইউএনও কার্যালয়ে পাহারা বসানো হয়। সেখানে ট্রেজারি চালানের ফরম ছিনতাই করা হয়। পরে তিনি কৌশলে মনোনয়ন ফরম জমা দেন। এরপর ওই ফরমে তাঁর সমর্থনকারীকে তুলে নেওয়া হয়। ওই সমর্থনকারীর স্বাক্ষরে গরমিল রয়েছে অভিযোগ তুলে তাঁর মনোনয়নপত্রটিই বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এমনকি মনোনয়ন বাতিলের সার্টিফায়েড কপিও তাঁকে তুলতে দেওয়া হয়নি। ফলে তিনি আপিলও করতে পারেননি।

আগামী ১১ এপ্রিল বালিপাড়া ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বাড়ি বালিপাড়া ইউনিয়নের সাউদখালী গ্রামে। জামায়াত–অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এখানে দলটির উপজেলা আমির স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, জামায়াত–অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় হাবিবুরকেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী কবির হোসেন বয়াতী।

বিজ্ঞাপন
সার্টিফায়েড কপি দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা টালবাহানা করেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে যোগসাজশে তাঁরা এসব করেছেন।
হাবিবুর রহমান, চেয়ারম্যান প্রার্থী, বালিপাড়া ইউপি

তখন এনায়েত সিকদার বলেন, ‘আমাকে তুলে নেওয়ায় মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাইকালে উপস্থিত থাকতে পারিনি। আমার স্বাক্ষরের মধ্যে খুব একটা গরমিল ছিল না। কয়েক বছর আগে পরিচয়পত্রে দেওয়া স্বাক্ষরের সঙ্গে একটু হেরফের হতেই পারে।’

চেয়ারম্যান প্রার্থী হাবিবুর অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অসহযোগিতা করেন। সার্টিফায়েড কপি দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাও টালবাহানা করেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে যোগসাজশে তাঁরা এসব করেছেন।

তবে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী কবির হোসেন বয়াতী বলেন, ‘হাবিবুর রহমানের সার্টিফায়েড কপি তুলতে কেউ বাধা দেয়নি। আমি কোথাও পাহারা বসাইনি। আমার বিরুদ্ধে হাবিবুরের করা অভিযোগ সব মিথ্যা।’ রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এস এম রোকনুজ্জামানও হাবিবুরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘হাবিবুর রহমান আমার কাছে সার্টিফায়েড কপি তুলতে আসেননি।’

এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা বলেন, ‘প্রার্থীর ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি সার্টিফায়েড কপি তুলতে পারবেন। হাবিবুর রহমানের কাছে অভিযোগ পেয়ে সার্টিফায়েড কপি দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বলেছিলাম।’

হাবিবুর সার্টিফায়েড কপি নিতে আমার কাছে আসেননি।
এ এস এম রোকনুজ্জামান, রিটার্নিং কর্মকর্তা

হাবিবুরের সমর্থকেরা জানান, মনোনয়নপত্র বিতরণের দিন ৩০–৪০ জন যুবক ইউএনও কার্যালয় এলাকায় পাহারার মতো বসায়। ৯ মার্চ দুপুরে হাবিবুরের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের জন্য ব্যাংক থেকে ট্রেজারি চালান ফরম নিয়ে তাঁর শ্যালক আবুল কালাম উপজেলা পরিষদে গেলে চালান ফরম ছিনতাই করা হয়। পরদিন হাবিবুর আবার ব্যাংক থেকে ট্রেজারি চালান ফরম সংগ্রহ করেন। এরপর তিনি কৌশলে মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়ন ফরমে হাবিবুরের নাম প্রস্তাবকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেন মো. মহিউদ্দিন ও সমর্থনকারী এনায়েত সিকদার। ১৯ মার্চ বিকেলে মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের জন্য হাবিবুর ওই দুজনকে নিয়ে উপজেলা পরিষদ এলাকায় যান। বেলা সোয়া তিনটার দিকে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী কবির হোসেন বয়াতীর উপস্থিতিতে কিছু লোক এনায়েতকে ধরে নিয়ে যান। মহিউদ্দিনকে মারধর করেন। বিকেলে মনোনয়পত্র যাচাই–বাছাইয়ের সময় কবির হোসেন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন, হাবিবুরের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষরে গরমিল রয়েছে। সেখানে উপস্থিত মহিউদ্দিন তাঁর স্বাক্ষর সঠিক বলে জানান। এনায়েতকে না পাওয়ায় তাঁর পরিচয়পত্রের স্বাক্ষরের সঙ্গে মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষর মিলানো হয়। এতে গরমিল দেখিয়ে মনোনয়নপত্রটি বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে অবশ্য এনায়েতকে উদ্ধার করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন