বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো: আপনাদের তো নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা। গত এক বছরে আপনারা সিলেট বিভাগে কতটি অভিযান পরিচালনা করেছেন? কোন জেলায় কতটি?

মো. ফখরুল ইসলাম: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভোক্তা সাধারণের অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে সিলেট বিভাগ ও এর আওতাধীন জেলাগুলোতে মোট ৯০৫টি বাজার অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে সিলেট নগরে ১৮৯টি, সিলেট জেলায় ১৭৮টি, হবিগঞ্জে ১৮৫টি, সুনামগঞ্জে ১৬৯টি ও মৌলভীবাজারে ১৮৪টি অভিযান পরিচালিত হয়। চলতি অর্থবছরেও তদারকি কার্যক্রম ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

কোন কোন ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালিত হয়েছে?

মো. ফখরুল ইসলাম: বিভিন্ন ধরনের হোটেল-রেস্তোরাঁ, খাদ্য প্রস্তুতকারী বেকারি, মিষ্টির দোকান, ওষুধের দোকান, সিএনজি ও পেট্রলপাম্প, ইটভাটা, ভেজাল মসলার কারখানা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের খুচরা ও পাইকারি বাজার, মুদিদোকান, কাঁচাবাজার, প্রসাধন সামগ্রীর দোকানসহ ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতাধীন বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

সিলেট নগরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ, খাদ্যদ্রব্যে নিষিদ্ধ রাসায়নিকের মিশ্রণ, ওজনে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নকল পণ্য সরবরাহ এবং অতিরিক্ত মূল্যে খাদ্যদ্রব্য বিক্রির অভিযোগ ভোক্তারা প্রায়ই করে থাকেন। এ ব্যাপারে আপনারা কী করছেন?

মো. ফখরুল ইসলাম: অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ, খাদ্যদ্রব্যে নিষিদ্ধ রাসায়নিক মিশ্রণ প্রতিরোধে জাতীয় ভোক্তা-অধিদপ্তর সংরক্ষণ অধিদপ্তর জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করে। এ বিষয়ে ভোক্তা সাধারণ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে সচেতনতামূলক সভা, সেমিনার, মতবিনিময় ও আলোচনা সভা করে। এ ছাড়া এ–সংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ করে আসছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জরিমানার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। অভিযানের ফলে আগের তুলনায় খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতে রাসায়নিক দ্রব্যের মিশ্রণ কমে এসেছে। এ ছাড়া সব নকল পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং অতিরিক্ত মূল্যে খাদ্যদ্রব্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযোগের ভিত্তিতে এবং নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হচ্ছে।

আবার দেখা যাচ্ছে, আইন অমান্য করে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মূল্যের তালিকা দোকানে সংরক্ষণ করছেন না। কী বলবেন?

মো. ফখরুল ইসলাম: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত বাজার অভিযানের কারণে অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান স্থানে পণ্য/সেবার মূল্য তালিকা টাঙিয়ে রাখা নিশ্চিত হয়েছে। এখনো যাঁরা মূল্যতালিকা প্রদর্শন করেন না, তাঁদের জরিমানার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। বর্তমানে এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষণীয়। আমরা আশাবাদী শিগগিরই প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকা নিশ্চিত করা যাবে।

গত এক বছরে ক্ষুব্ধ হয়ে কতজন ভোক্তা আপনাদের এখানে অভিযোগ করেছেন? অভিযোগের নিষ্পত্তির ফলাফল কী?

মো. ফখরুল ইসলাম: গত ২০২০-২১ অর্থবছরে সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে মোট ৩৪৮টি অভিযোগ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৪২টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট অভিযোগের ৯৮ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় মোট ৩ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়, যার ২৫ শতাংশ হিসেবে ৭৭ হাজার ৯৫০ টাকা মোট ৬৮ জন অভিযোগকারীকে প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি অনলাইনে কেনাবেচা বাড়ছে। তবে এ মাধ্যমে কেনাকাটা করতে গিয়ে অনেক ভোক্তা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে। অনলাইনকেন্দ্রিক ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণে আপনারা কী করছেন?

মো. ফখরুল ইসলাম: এ বিষয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির মাধ্যমে অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি করা হয়ে থাকে। তা ছাড়া এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখন নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা হিসেবে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এগুলো বাস্তবায়নে তৎপর আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন