বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় আখচাষি ও চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া এলাকায় ৬০ একর জমিতে পাবনা চিনিকল প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি চালু করতে ১২৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়। চিনিকল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ৯ উপজেলায় ব্যাপকভাবে আখ চাষ শুরু হয়। উৎপাদন শুরুর পর থেকেই লোকসান গুনতে শুরু করে চিনিকলটি। ফলে গত বছর শিল্প মন্ত্রণালয় চিনি আহরণের হার, আখের জমি, লোকসানের পরিমাণ এবং ব্যবস্থাপনার খরচ বিবেচনায় পাবনা চিনিকলসহ ছয়টি চিনিকলে আখমাড়াই না করার প্রস্তাব দেয়। এর পর থেকেই পাবনা চিনিকলে আখমাড়াই বন্ধ হয়ে যায়। এতে আখ নিয়ে ভোগান্তি শুরু হয় আখচাষিদের।

স্থানীয় কয়েকজন আখচাষি বলেন, বন্ধ ঘোষণার সময় চিনিকল কর্তৃপক্ষ তাঁদের উৎপাদিত আখ কাছের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল ও নাটোর চিনিকলে বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান। কিন্তু গত এক বছরেও সে প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি। ফলে আখ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে চলতি মৌসুমে অনেক চাষি আখের জমিতে সবজি চাষ করেছেন। অন্যদিকে যাঁরা আখ চাষ করেছেন, তাঁরা আখ বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। আখ বিক্রি না হলে চাষিদের বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেলা আখ চাষি সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯ উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জন আখচাষি রয়েছেন। চিনিকল চালু থাকা অবস্থায় তাঁরা প্রায় ৬ হাজার একর জমিতে আখ চাষ করতেন। গত বছর মিল বন্ধ ঘোষণার পর থেকে অনেকেই আখ চাষ বন্ধ করে দিয়েছেন। এরপরও চলতি মৌসুমে প্রায় ১ হাজার ৫০০ একর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। কিন্তু এই আখ তাঁরা কোথায় বিক্রি করবেন, তা বুঝে পাচ্ছেন না।

জেলা আখ চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী জানান, চিনিকল চালু থাকা অবস্থায় তিনি প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে আখ চাষ করতেন। চিনিকলে আখমাড়াই বন্ধ ঘোষণায় ১৫ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন। কিন্তু আখ বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন।

আনসার আলী প্রথম আলোকে বলেন, ভালো ফলন ও সঠিক সময়ে আখ বিক্রি করতে পারলে প্রতি বিঘা জমিতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। কিন্তু সময়মতো বিক্রি করতে না পারলে আখ নষ্ট হয়ে যায়। তাই লোকসান ঠেকাতে দ্রুত আখ বিক্রি করে দেওয়া উচিত।

জেলা আখ চাষি সমিতির সভাপতি শাজাহান আলী বলেন, ‘কৃষকদের স্বার্থে পাবনা চিনিকলে আখমাড়াই কার্যক্রম শুরু করা দরকার। তা না হলে কৃষক আখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। এ ছাড়া চিনিকলের যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেলে সরকারের বড় ধরনের লোকসান হবে। তাই আমরা আধুনিকায়নের মাধ্যমে অতিদ্রুত চিনিকলটি চালুর দাবি করছি।’

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, চিনিকল তালাবদ্ধ। খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে আখ পরিবহনের দুই শতাধিক ট্রলি। আখমাড়াইয়ের যন্ত্রপাতিগুলো মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

চিনিকল সূত্র জানায়, আখমাড়াই প্ল্যান্টসহ চিনিকলে ৭৮ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় আখমাড়াইয়ের যন্ত্রের ডোঙ্গা, নাইফ, ক্রাসার, ব্রয়লার হাউস, রুলার, ড্রায়ারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফ উদ্দিন বলেন, চিনিকলটি এখনো পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। আধুনিকায়নের মাধ্যমে এটি চালুর প্রক্রিয়া চলছে। তবে যত দিন পর্যন্ত চালু না হচ্ছে তত দিন জেলার আখচাষিদের নিকটবর্তী নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। ফলে জমির আখ নিয়ে কৃষকের দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন