বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর মার্চ মাসে স্কুলটি বন্ধ হওয়ার সময় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫৬৩ জন। দশম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৭৪। এদের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করেছে মাত্র ৩৯ জন। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের দুশ্চিন্তা শুরু হয়। তারা উপস্থিতির হার পর্যবেক্ষণ করে প্রায় ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী কম উপস্থিত হচ্ছে বলে দেখতে পায়। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে দারিদ্র্যের কারণে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েরা বাল্যবিবাহের শিকার ও ছেলেরা বিভিন্ন কাজে যুক্ত হয়ে গেছে।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুয়েল রানা বলে, দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তার সহপাঠীদের অনেকেই পারিবারিকভাবে বিভিন্ন সমস্যায় ছিল। ফলে তারা কেউ মাঠে শ্রমিকের কাজ করছে, কেউবা কলকারখানায় কাজ নিয়েছে। এখন কাজের মধ্যে থেকে তারা আর স্কুলে আসতে চাচ্ছে না।

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী জোবাইদা খাতুন বলে, ‘মেলা দিন পর স্কুলে আসতেছি। সহপাঠীগের অনেকে নাই। শুনছি তাগের বিয়ে হয়ে গেছে। খুবই খারাপ লাগতেছে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদ খান বলেন, বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় পরিবারগুলো সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। স্কুল খোলার অনিশ্চয়তার কারণেই অনেকে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে ছেলেসন্তানদের কাজে লাগিয়েছেন। তাই তারা স্কুলে আসছে না। বিবাহিত মেয়েদের অনেকে এসএসসি ফরম পূরণ করলেও স্কুলবিমুখ রয়েছে। তাদের স্কুলমুখী করতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিরুজ্জামান খান বলেন, ‘দারিদ্র্যের কারণেই অনেক পরিবার সন্তানদের কাজে লাগিয়েছে। আবার অনেক অভিভাবক মেয়েসন্তানের নিরাপত্তার কারণে তাকে বিয়ে দিয়েছেন। দু–একটি বিয়ের খবর জানার পর স্কুল পরিচালনা পরিষদ গিয়ে বন্ধ করেছে। পরে কিছু বিয়ে গোপনে হয়। এ কারণে আমাদের আর কিছু করার থাকেনি। তবে ঝরে যাওয়া এই শিক্ষার্থীদের আমরা আবার স্কুলমুখী করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এ প্রসঙ্গে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোসলেম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুধু সাদুল্যাপুর উচ্চবিদ্যালয় নয়, জেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছি। তালিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন