default-image

পঞ্চগড়ে ভূমিহীন ও দুস্থ ব্যক্তিদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করতে পর্যাপ্ত খাসজমি পাওয়া যাচ্ছিল না। জমির অভাবে সরকারি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় এই শঙ্কা দূর হয়েছে। তিনি জমি দেওয়ায় মাথাগোঁজার ঠাই পাচ্ছে বেশ কিছু হতদরিদ্র পরিবার। এ ঘটনা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের রণচণ্ডী এলাকার।ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম আবদুল মালেক।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেকের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। বাবার স্বপ্ন পূরণে বঙ্গবন্ধুর মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো মানুষ যাতে গৃহহীন না থাকেন, সেই উদ্যোগ নিয়েছেন। গৃহহীনদের জন্য জমি দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক প্রধানমন্ত্রীর সেই উদ্যোগের সহযোগী হয়েছেন। জমি দান করতে পেরে তিনি ভীষণ আনন্দিত।

এ বিষয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক। তিনি বললেন, ‘১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম, দেশ স্বাধীন হয়েছে। এখন তাঁর মেয়ে (শেখ হাসিনা) দেশের মানুষকে শান্তিতে রাখতে নানা কাজ করছেন। কোনো মানুষ যাতে গৃহহীন না থাকে, সেই উদ্যোগ নিয়েছেন। আমি সেই উদ্যোগের সঙ্গী হতে চেয়েছি। আমি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার সহযোগী হতে চাই।’

বিজ্ঞাপন
default-image

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সরকারের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীনদের জন্য নিজের এক একরের বেশি জমি দান করেছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তেঁতুলিয়া উপজেলার তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের রণচণ্ডী এলাকার তাঁর জমিতেই ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ৩২টি দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমি পাকা ঘর। এমনকি এই নবনির্মিত এই বাড়িগুলোতে যাতায়াতের জন্য রাস্তা তৈরিতেও তিনি দান করেছেন নিজের জমি।  

তাঁর এই মহানুভবতাকে সম্মান জানাতে পঞ্চগড়-১ আসনের সাংসদ মজাহারুল হক প্রধান ও তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসন ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের নাম ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক নগর গুচ্ছগ্রাম’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে দেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়ায় ‘জমিও নেই বাড়িও নেই’, এমন ৪২টি পরিবারকে প্রাথমিক পর্যায়ে সেমি পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। তবে ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা এই উপজেলায় বাড়ি তৈরি করার উপযোগী প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাসজমি পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি জানতে পেরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক জমি দান করার প্রস্তাব দেন। বর্তমানে নিজের মোট ১০ একর জমির মধ্য থেকে এক একর সরকারকে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

শৌচাগারসহ দুটি কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি পাকা ঘরে থাকছে রান্নাঘর ও বারান্দা। সুপেয় পানির জন্য থাকছে প্রতি দুটি পরিবারের জন্য একটি নলকূপ। প্রতিটি সেমি পাকা ঘর নির্মাণে সরকারিভাবে বরাদ্দ করা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৪২টি ঘরের মধ্যে ৩২টি ঘরই নির্মিত হচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেকের ৯০ শতক জমিতে। এ ছাড়া ওই বাড়িগুলোতে যাতায়াতের জন্য রাস্তা তৈরিতে ১৫ শতক এবং মাটি কেটে বাড়িগুলোতে ভরাট করার জন্য ১৫ শতক জমি দিয়েছেন তিনি।

শৌচাগারসহ দুটি কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি পাকা ঘরে থাকছে রান্নাঘর ও বারান্দা। সুপেয় পানির জন্য থাকছে প্রতি দুটি পরিবারের জন্য থাকছে একটি নলকূপ। প্রতিটি সেমি পাকা ঘর নির্মাণে সরকারিভাবে বরাদ্দ করা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসব বাড়ির নির্মাণকাজ শেষ করে দুস্থ ব্যক্তিদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেকের ছেলে আবদুর রহমান বলেন, ‘বাবার কাছে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের অনেক গল্প শুনেছি। তিনি বঙ্গবন্ধুর অন্ধভক্ত। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে গুচ্ছগ্রাম তৈরির জন্য তিনি সরকারকে জমি দেবেন বলে আমাদের জানান। আমরাও সব ভাইবোন (চার ভাই, আট বোন) বাবার এই ভালো কাজে সম্মতি দিয়েছি। এখন আমার নিজের গর্ব হচ্ছে, এমন একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হতে পেরে।’

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘আমরা যখন ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য বাড়ি নির্মাণের জমি খুঁজছিলাম, তখন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক জমি দান করবেন বলে আমাদের জানান। তাঁর এই উদারতায় আমরা মুগ্ধ। বঙ্গবন্ধু আর দেশের প্রতি তাঁর যে ভালোবাসা, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’

আমরা যখন ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য বাড়ি নির্মাণের জমি খুঁজছিলাম, তখন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক জমি দান করবেন বলে আমাদের জানান। তাঁর এই উদারতায় আমরা মুগ্ধ।
সোহাগ চন্দ্র সাহা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন