বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিআইডব্লিউটিসি ঘাট সূত্র জানায়, বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ১৮-২০টি ফেরি রয়েছে। গত জুলাই ও আগস্ট মাসে পদ্মায় তীব্র স্রোত অব্যাহত থাকায় পদ্মা সেতুর তিনটি পিলারে চারবার ফেরির ধাক্কা লাগে। এতে আহত হন বেশ কয়েকজন যাত্রী। ফেরির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেতুর পাইল ক্যাপ। এই পরিস্থিতিতে নৌপথে সব ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে গত মাসের ১৮ আগস্ট দুপুরের পর থেকে এই নৌপথে ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফেরি বন্ধের এক মাসে পদ্মায় স্রোতের গতি না কমলেও পানির উচ্চতা অনেকটা কমেছে। বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ার পর বিকল্প নৌপথ হিসেবে বাংলাবাজার ঘাটের পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুরের মাঝিকান্দি-শিমুলিয়া নৌপথকে ভাবা হয়েছিল। ওই নৌপথ চালুর জন্য মাঝিকান্দিতে রো রো ফেরির পন্টুন বসানো হলেও তা চালু হয়নি। এই নৌপথে নৌ-চ্যানেলে একাধিক ডুবোচর থাকায় ফেরি চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি।

এই নৌপথে ফেরি পুরোপুরি বন্ধ থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া হয়ে রাজধানী ঢাকায় যেতে হচ্ছে।

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সালাউদ্দিন আহমেদ আজ শুক্রবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, এখনো ফেরি চালুর বিষয় কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। পদ্মায় পানির উচ্চতা এক মাস আগের তুলনায় অনেক কমেছে, স্রোতও কিছুটা কম। তবে নৌ-চ্যানেলগুলোয় স্রোত আছে। এ অবস্থায় ফেরি চালু করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে কবে নাগাদ ফেরি চালু হবে, তা বলা যাচ্ছে না। বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের মেরিন কর্মকর্তা আহমদ আলী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘পদ্মায় পানি কমলেও স্রোত কমেনি এখনো। পদ্মায় এখনো ঘণ্টায় ৪ দশমিক ৭৮ নটিক্যাল মাইল বেগে স্রোত চলছে। পদ্মার পানির গতি নিয়ে আমরা নিয়মিত মনিটর করছি। স্রোতের বেগ ঘণ্টায় দুই বা আড়াই নটিক্যাল মাইলে এলে তখন ফেরি চলতে পারবে। এখন যে অবস্থায় স্রোত আছে, তাতে ফেরি চলাতে গেলে আবার দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকবে।’

সুনসান বাংলাবাজার ফেরিঘাট

সরেজমিনে আজ দুপুরে দেখা যায়, অনেকটাই সুনসান বাংলাবাজার ফেরিঘাট। ঘাটের পন্টুনের পাশে কয়েকটি ডাম্ব ফেরি নোঙর করে রাখা রয়েছে। ঘাটে দায়িত্বশীল নেই কোনো কর্মকর্তা। ফেরি না চলায় কোনো গাড়িও এখন আর পারাপারের জন্য এই ঘাটে ভিড়ছে না। যাত্রীরা যাঁরা ঘাটে আসছেন, তাঁরা ফেরিঘাটে না এসে লঞ্চঘাটের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। ফেরির যাত্রীরা লঞ্চে পদ্মা পারাপার হচ্ছেন। এ কারণে লঞ্চগুলোয় অতিরিক্ত চাপও দেখা গেছে।

default-image

ঢাকাগামী লঞ্চের যাত্রী আসাদ শিকদার বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমার আম্মা অসুস্থ ছিলেন। তাঁকে ঢাকা নিতে হয়েছে। এই নৌরুটে ফেরি বন্ধ থাকায় বিকল্প রুট দিয়ে যেতে হয়েছে। ওই পথে দীর্ঘ সময় লেগেছে, একই সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াও দ্বিগুণ দিতে হয়েছে।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে বরিশালের যাত্রী ইকবাল হোসেন বলেন, স্রোতের অজুহাত দেখিয়ে ফেরি বন্ধ রেখেছে, আর কর্মকর্তাদের এখন কোনো কাজ করতে হচ্ছে না। প্রতিবছরই এই সময়ে স্রোত বাড়ে। হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে অন্তত অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীবাহী গাড়ি পার করার জন্য উচ্চক্ষমতার দু-একটি ফেরি কি চালু রাখা যেত না? আসলে সরকারের কাছে মানুষের জীবন মূল্যহীন।

বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত স্রোত বেশি। স্রোত না কমলে ফেরি ছাড়া যাবে না। তাই আমরা বিকল্প পথ হিসেবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় সব যানবাহন পারাপার করছি। এই পথে কিছুটা দুর্ভোগ হলেও এ অবস্থায় কিছুই করার নেই।’ বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে কবে নাগাদ ফেরি চালু হতে পারে—এ প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘স্রোত-বর্ষার ওপর নির্ভর করে। এখন কবে স্রোত কমবে, তা বোঝা যাচ্ছে না। আমরা দেখি, খুব শিগগির পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চালু করা যায় কি না।’

শরীয়তপুরের মাঝিকান্দি এলাকায় ফেরি চালুর বিষয় জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম আরও বলেন, বিকল্প নৌপথ হিসেবে মাঝিকান্দিতে ফেরি চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে স্রোত কম থাকলেও চর বেশি। সেখানেও ফেরি চালানো যাচ্ছে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন