default-image

মৌলভীবাজার শহরতলিতে আহত অবস্থায় অচেনা পাখি হিসেবে স্থানীয়দের কাছে ধরা পড়েছিল একটি বিলুপ্তপ্রায় বাচ্চা ইগল। এরপর আহত পাখিটিকে এক মাস সেবা-শুশ্রূষা দেওয়া হয়েছে প্রয়াত বন্য প্রাণী গবেষক তানিয়া খান প্রতিষ্ঠিত সেভ আওয়ার আনপ্রোটেক্টেড লাইফের বন্য প্রাণী সেবাকেন্দ্রে (সোল)। সুস্থ হয়ে ওঠায় ইগলটিকে অবমুক্ত করা হয়েছে। পাখিটি ফিরে পেয়েছে তার মুক্ত আকাশ।

গত রোববার বিকেলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পাখিটিকে খাঁচা খুলে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরীসহ অন্য কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং ওই বন্য প্রাণী সেবাকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জানুয়ারি মৌলভীবাজার শহরতলির কালেঙ্গা এলাকা থেকে পাখিটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয় লোকজন। পরে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তত্ত্বাবধানে পাখিটিকে উদ্ধার করে সেবা-শুশ্রূষার জন্য বন্য প্রাণী সেবাকেন্দ্রে রাখা হয়। উদ্ধার হওয়া লালচে বুক ইগলটি ছিল অপরিণত বয়সের। দুই থেকে চার বছর বয়স বা পরিণত বয়সে তাদের বুক ও পেটে লালচে রং আসে।

সেবাকেন্দ্রে পাখিটিকে সার্বক্ষণিক পরিচর্যাকারী সাদেক রহমান সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, পাখিটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গিয়েছিল। প্রথম ১৫ দিন ইগলটিকে কোয়েল পাখির মাংস খাওয়ানো হয়েছে। এরপর ছাড়ার আগপর্যন্ত খাওয়ানো হয়েছে মোরগের মাংস।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) বাংলাদেশ প্রকাশিত রেড লিস্ট অব বাংলাদেশ বইয়ে বলা হয়েছে, এই পাখিটিকে ইংরেজিতে রুফাস বেলিড ইগল এবং বাংলায় লাল পেট ইগল বা লালচে বুক ইগল বলা হয়ে থাকে। এটি বাংলাদেশের একটি বিরল আবাসিক প্রজাতির পাখি। চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকা এদের আবাসভূমি।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন