নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে আজ শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু করে উদ্ধারকারী দল। উদ্ধার কাজে স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল অংশ নিচ্ছে। সকাল সাতটায় উদ্ধারকাজ তদারক করার জন্য গুপ্তছড়া ঘাটে এসে উপস্থিত হন ইউএনও সম্রাট খীসা।

ইউএনও সম্রাট খীসা প্রথম আলোকে বলেন, সন্দ্বীপের উড়িরচর ইউনিয়নের উপকূলে একটি ঝোপের সঙ্গে কন্যাশিশুটির লাশ আটকে ছিল। স্থানীয় এক জেলে দেখতে পেয়ে বিষয়টি তাঁদের জানান। খবর পেয়ে তিনি উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের পাঠিয়ে শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে লাশটি উদ্ধার করেন। পরিবারের সদস্যরা লাশ দেখে আদিবা নাকি আলিফা তা শনাক্ত করবেন। নিখোঁজ অপর দুই শিশুর লাশ উদ্ধার হওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবেন।

স্পিডবোট চলাচল বন্ধ

স্পিডবোট দুর্ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা ও সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া নৌপথে স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার বন্ধ রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নৌপথে স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

ইউএনও সম্রাট খীসা প্রথম আলোকে বলেন, যেহেতু একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। তাই এ পথে যাচাই-বাছাই ছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার নিষেধ করা হয়েছে। তবে বিআইডব্লিউটিসির যাত্রীবাহী জাহাজ ও সার্ভিস বোটে যাত্রী পারাপার অব্যাহত থাকবে।

তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে

স্পিডবোডডুবির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল বৃহস্পতিবার কাজ শুরু করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান সন্দ্বীপের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈনউদ্দীন।

মো. মঈনউদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত কমিটির সদস্যরা গতকাল আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করেছেন। তদন্তকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে কিছু বলতে চান না তিনি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে জানান তিনি।

এর আগে ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

গত বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা ঘাট থেকে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটের দিকে ২৩ যাত্রী নিয়ে একটি স্পিডবোট রওনা দেয়। সন্দ্বীপ চ্যানেলের মাঝামাঝি পৌঁছালে স্পিডবোট ঝড়ের কবলে পড়ে। ঝোড়ো হাওয়া ও ভাটার টানে স্পিডবোটটি গুপ্তছড়া ঘাট থেকে অন্তত তিন কিলোমিটার দক্ষিণে মাইটভাঙ্গা ঘাটের কাছাকাছি যায়। একপর্যায়ে সেখানে স্পিডবোটটি ডুবে যায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন