বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সূত্র জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় সিডরে কলাপাড়া উপজেলায় ১০৪ জন মারা যান। এর মধ্যে কাউয়ার চর ও তৎসংলগ্ন চর গঙ্গামতিতে ৯ জন মারা যান। যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের অধিকাংশই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে বসবাস করতেন। আবহাওয়ার বিপৎসংকেত পেয়ে দূরের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় বানের স্রোতে পড়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিডরে কাউয়ার চরের অন্তত ৭০০ ও চর গঙ্গামতির ৩৫০ পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। ৪০০ গরু-ছাগল ও প্রায় ২০০০ হাঁস-মুরগি মারা যায়।

বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা কাউয়ার চরে প্রায় আট হাজার মানুষের বাস। এখানে অবস্থাপন্ন গৃহস্থ পরিবারের সংখ্যা কম। ছোট ছোট ঝুপড়ি তুলে তাঁরা থাকেন। বেশির ভাগ লোক চিংড়ির পোনা ধরেন। আবার কেউ ট্রলার বা নৌকায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানায়, ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর কাউয়ার চরে খাসজমির ওপর ২৭টি পরিবারকে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দেয়। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ছয়টি পিলারের ওপর ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরে চারটি জানালা এবং দুটি দরজা রাখা হয়েছে। জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেলেও যাতে ক্ষতি না হয়, সে জন্য ঘরের নিচের অংশ পুরোপুরি ফাঁকা রাখা হয়েছে। টংঘরের আদলে তৈরি করা এসব ঘরের ছাদ-দেয়ালে ফাটল ধরেছে। ওপরে ওঠার সিঁড়ির দুই পাশের লোহার হাতল, জানালার গ্রিল মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে।

মধু আকন নামের একজন বলেন, ‘সিডরের পর আমাগো দুরবস্থা দেইখ্যা একটা সংস্থা আমাগো যে ঘর উডাইয়া দেছে হেইতেই আমরা থাহি। অ্যাহন হেই ঘরে থাহার মতো কোনো পরিবেশ নাই। আবার ঝড়-বইন্যা হইলে হইলে যে আশ্রয় লমু হ্যারও কোনো ব্যবস্থা আমাগো নাই।’

ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার যথাযথ ব্যবস্থাটা জরুরি। সে জন্য কাউয়ার চরে পাঁচ একর জায়গায় মুজিব কিল্লা নির্মাণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন