২২ মার্চ বিলটুনাপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, মুল্লুক চানের টিন আর ইটের বড় বাড়ি। চার ছেলেমেয়ের মধ্যে বড় ছেলে গণিত বিষয়ে স্নাতকোত্তর, ছোট ছেলে প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক পড়ছেন। মেজ ছেলে সংসার সামলানোর জন্য পড়াশোনা বেশি করেননি। একমাত্র মেয়ে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেছেন। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।

মুল্লুক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পালিয়ে তাঁর বাবা অন্য জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। গ্রাম পুড়িয়ে দেবে শোনার পর মা তাঁদেরসহ জিনিসপত্র নিয়ে একটি গর্তের মধ্যে লুকিয়ে ছিলেন। পাকিস্তানি সেনারা পাশের গ্রাম পুড়িয়ে দিয়ে গেল। এ সবই তাঁর মনে আছে। দেশ স্বাধীন হচ্ছে শুনে মা তাঁদের তিন ভাইবোনকে নিয়ে বাবার কাছে গেলেন। ট্রেনের পথ। বাবা তখনো ফিরতে সাহস করলেন না। তারপর ফিরতি ট্রেনে তাঁরা আবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। একটি স্টেশনে ট্রেন দাঁড়াল। তখন তিনি শৌচাগারে যেতে চাইলেন। মায়ের কথা না শুনে তিনি নিচে নামলেন। আর তখন ট্রেন ছেড়ে দিল। সামনে ব্রিজ পড়ার কারণে তিনি আর ট্রেনের পেছনে দৌড়াতে পারলেন না। কাঁদতে লাগলেন।

তখন একজন লোক কাঁধে করে তাকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে গেলেন। কিন্তু পরের ছেলে বাড়ি নিয়ে আসার জন্য লোকটার মা তাঁকে বকাঝকা করতে লাগলেন। লোকটা আবার তাঁকে কাঁধে করে অন্য একটা স্টেশনে নামিয়ে দিলেন। সারা রাত তিনি স্টেশনে দাঁড়িয়ে থেকে কাঁদলেন। কাঁদতে কাঁদতে সকাল হয়ে গেল। একজন নারী তাঁকে নিয়ে আরেক ট্রেনে উঠলেন। ট্রেনে পরিচয় হয় পালক বাবার মেয়ে সখিনা বুবুর সঙ্গে।

মুল্লুক চান বলেন, মহব্বত শেখ তাঁকে নিজ সন্তানের মতো মানুষ করেছেন। তাঁর আট বোনের সঙ্গে অংশমতো জমিজমাও লিখে দিয়েছেন। কিন্তু এত বছর পার হয়ে গেল, এখনো মায়ের কথা মনে হলে মনের মধ্যে আনচান করে ওঠে।

মুল্লুক চান আরও বলেন, তাঁর মাঝেমধ্যে মনে হয়, ট্রেনটা চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। রহনপুরের একজন লোকের সঙ্গে ওই এলাকায় নিজের পরিবারকে খুঁজতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ছোটবেলার সেই ছবির সঙ্গে কিছুই মেলে না। যদি বাড়ির ঠিকানা পেতেন, তবে মা–বাবা বেঁচে থাকলে তাঁদের দেখতে পেতেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন