default-image

তোহা ইসলাম কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার ১ নম্বর আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। চলতি শিক্ষা বছরের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নতুন বইয়ের গন্ধ নিতে পারেনি সে। বই না পাওয়ায় লেখাপড়ার জন্য তাকে বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

তোহা বলে, ‘করোনার কারণে এমনিতেই স্কুল বন্ধ। ক্লাস নেই। শিক্ষকের দেখা নেই। এই অবস্থায় বাড়ি আর বই ভরসা। কিন্তু আমার ভাগ্যে বই জোটেনি। ফলে বাড়িতে বসেও যে পড়াশোনা করব, সেই সুযোগ নেই।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু তোহা-ই নয়, স্কুলটির মাধ্যমিক পর্যায়ের ৫১ দশমিক ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনো নতুন বই পায়নি। এতে বাসায় বসে পড়াশোনা করার সুযোগ হারাচ্ছে ওই সব শিক্ষার্থী। করতে পারছে না অ্যাসাইনমেন্ট। এ নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা চিন্তিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষকেরাও বিচলিত।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ নম্বর আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির অবস্থান উপজেলার দেউঘর ইউনিয়নে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ২০১৪ সালে বিদ্যালয়টিতে পরীক্ষামূলকভাবে নিম্নমাধ্যমিকের পাঠদান শুরু হয়। মোট শিক্ষার্থী ৭৬৬। এর মধ্যে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে রয়েছে ২৯০ জন। প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ৪৭৬ জন।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থীর হাতে যথাসময়ে নতুন বই পৌঁছেছে। বিপত্তি ঘটেছে নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪৫ জন। বই দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪০ জনকে। সপ্তম শ্রেণির ৭৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে বই মিলেছে ৪০ জনের। অষ্টম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী আছে ৭০ জন। বই পেয়েছে ৬০ জন। এই তিন শ্রেণির ২৯০ জনের বিপরীতে এখনো বই পায়নি ১৫০ জন, যা শতকরা হিসাবে দাঁড়ায় ৫১ দশমিক ৭২ শতাংশ। এসব শিক্ষার্থী বই পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর শিক্ষকেরা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। কিন্তু বই পাওয়া নিয়ে কার্যালয়টি থেকে ইতিবাচক উত্তর মিলছে না। সেই কারণেই শিক্ষকেরা এখন হতাশ হয়ে পড়েছেন। শিক্ষকদের সঙ্গে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদেরও ভুল–বুঝাবুঝির পাশাপাশি দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। প্রতিদিন একাধিক শিক্ষার্থী বা অভিভাবক বিদ্যালয়ে এসে কখন বই মিলবে, এমন তথ্য জানতে চাচ্ছেন।

জীবন মিয়া বিদ্যালয়টির সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বই–বঞ্চিতদের মধ্যে সে–ও একজন। জীবন জানায়, বই না থাকার কারণে এখনো তার পক্ষে কয়েকটি বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠা দেখা বা খোলা হয়নি।

বই নিয়ে সৃষ্ট ঝামেলার কথা স্বীকার করেন বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, হাঁটাচলার পথে এই বিষয়ে অভিভাবকদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের দোয়ারে কম যাওয়া হয়নি। তাঁদের একটাই উত্তর চেষ্টায় আছি। কিন্তু সেই চেষ্টা আর সফলতার মুখ দেখেনি।

এ বিষয়ে ৩১ মার্চ মুঠোফোনে কথা হয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসানুল জাহিদের সঙ্গে। সমস্যাটির বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন জানিয়ে বলেন, ‘আসলে সমস্যা সৃষ্টির মূলে কিন্তু শিক্ষকেরা। জানা থাকা দরকার বই পেতে হলে আগের বছরে চাহিদা দিতে হয়। শিক্ষকেরা সঠিকভাবে চাহিদা দিতে পারেননি। কম দিয়েছেন।’ তবে তিনি এই প্রতিবেদককে আশার কথা জানিয়ে বলেন, ‘চেষ্টা করব কয়েক দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়ার।’ তবে আজ শুক্রবার খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাঁর এই চেষ্টা এখনো সফল হয়নি।

খলিলুর রহমান বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক। তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আজ সকালে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যে পরিমাণ চাহিদা দিয়েছি, সে পরিমাণ বই এখনো পাইনি।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন