জহিরুল জানান, কাজ পেলে তিনি দিনে মজুরি পান ৩০০ টাকা। মাসে গড়ে ২০ দিন কাজের সংস্থান হয়। মাসে ছয় হাজার টাকার মতো আয় দিয়ে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, মরিচ ইত্যাদি কেনা এবং সংসারের অন্যান্য ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তাঁর কোনো জমিজমা নেই। বাবা জাফর আলীর ১০ শতাংশ জমিতে একটি শোলার (পাটকাঠি দিয়ে নির্মিত) বেড়ার ঘরে তাঁরা বাস করেন।

মলিন মুখে জহিরুল বলেন, টিসিবির পণ্যের যে ‘প্যাকেজ’ তা কেনা তাঁর জন্য কষ্টকর। কারণ, এককালীন অত টাকা তাঁর কাছে থাকে না।

উল্লেখ্য, সারা দেশের মতো ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে উপজেলায় দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি চিনি, দুই কেজি মসুর ডাল ও দুই কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে। পুরো প্যাকেজের দাম ৫৩০ টাকা ধরা হয়েছে।

রাজীবপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে গত বৃহস্পতিবার দরিদ্র মানুষের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র দেখা গেল। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সংসারের ব্যয় যতটা সম্ভব কাটছাঁট করেছেন তাঁরা। যেহেতু তাঁদের বাজারের তালিকায় চাল, ডাল, তেল ও পেঁয়াজের বাইরে তেমন কিছু থাকে না, তাই খরচ কমাতে বাদ পড়েছে তেল। কেউ কেউ পেঁয়াজের পরিমাণ কমিয়েছেন। কেউ কেউ ডাল কম, পানি বেশি দিয়ে রান্না করেন।

নদীভাঙনের শিকার শংকরমাধবপুর গ্রামের গৃহিণী হুনুফা খাতুন (৪২) ও সাইফুল ইসলামের (৫০) ছয় সদস্যের সংসার। নিজের ৪ শতাংশ জমিতে একটি শোলার ঘর করে থাকেন তিনি। সাইফুল সারা দিন বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভাঙারি জোগাড় করে বাজারে বিক্রি করে দিনে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পান।

হুনুফা বলেন, ‘সব দিন স্বামীর কামাই একরকম হয় না। যেদিন কামাই না অয় হেই দিন ধারদেনা কইরা সংসার চালাই। খাওনত লাগেই। কত দিন তেল ছাড়া তরকারি রানছি। আমরা কোনে রহম খাইলেও পোলাপানে খাইবার চায় না।’

বদরপুর গ্রামের গৃহিণী মর্জিনা বেগম (৫০) বলেন, স্বামী-স্ত্রী, শাশুড়ি ও চার ছেলেমেয়ে নিয়ে তাঁদের সংসার। মর্জিনার স্বামী রহিজুল ভূঁইয়া (৬০)। রহিজুল দিনমজুরি এবং ছোট ছেলে মফিজুল অটোরিকশা চালিয়ে যে আয় করেন, তা দিয়ে সাত সদস্যের পরিবারটির খেয়ে না খেয়ে দিন চলে। সারা দিনে বাবা-ছেলে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করেন। সেই টাকা চাল, ডাল, তরিতরকারি কিনতেই সব খরচ হয়ে যায়। তিনি বলেন, দুই তিন মাস পর পর কোনো দিন বাড়তি আয় হলে মাছ-মাংস খেতে পারেন তাঁরা।

রাজীবপুর বাজারের কয়েকজন মুদিদোকানি জানান, চাল, ডাল, তেল, মরিচ, পেঁয়াজ, সাবানসহ সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। গত বছর যে তেলের দাম ছিল ১৩০ টাকা, তা এখন ১৬৮ টাকা লিটার। মসুর ডাল ছিল ৮০ টাকা; বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা কেজি। ৭৫ টাকা কেজির চিনি এখন ৮০ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া সাবানপ্রতি দাম ৫-১০ টাকা বেড়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন