স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা শাকিল হাসান বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যার পর এক ভ্যানচালক ওই ব্যক্তিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনেন। তাঁর ভাষ্যমতে, বাসে উঠে তিনি নড়াইলে যাচ্ছিলেন। বাসে ওঠার আগে অপরিচিত একজন তাঁকে কলা খেতে দেন। এরপর তিনি বাসে ওঠেন। পরে তিনি আর কিছু জানেন না। টাকাপয়সা, কাগজপত্র, মুঠোফোন সব নিয়ে গেছে বলে তিনি জানান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসার পর দুটি ব্যাগ পাওয়া যায়। কিন্তু কোনো কাগজপত্র বা প্রয়োজনীয় কিছু পাওয়া যায়নি।

গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কথা হয় নূর ইসলামের সঙ্গে। এ সময় তাঁর মাথায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ড, চুয়াডাঙ্গা লেখা বিজয় দিবসের একটি ক্যাপ পরা ছিল। তিনি বলেন, তাঁর বাবার নাম সৈয়দ আলী। বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ৮ নম্বর সেক্টরের অধীন যশোরের চাঁচড়া, ঝিকরগাছা, শার্শা, নাভারণ, বেনাপোল এলাকায় যুদ্ধ করেছেন। তাঁর পায়ে গুলি লাগার চিহ্ন রয়েছে। আহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি ভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু তিনি কীভাবে হাসপাতালে ভর্তি হলেন কিছুই জানেন না। চারটা কলা ছিল। সেখান থেকে তিনি একটা কলা খাওয়ার পর কিছু মনে করতে পারছেন না। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাঁর দুজন কাছের বন্ধু ছিলেন যশোরের চাঁচড়া ডাল মিলের মালিক নজরুল ইসলাম ও যশোর শহরের সাজঘর বস্ত্রালয়ের কার্ত্তিক বাবু।

একপর্যায়ে নূর ইসলাম বলেন, ‘আমি এখানে কীভাবে আসলাম? আমি বাড়ি যাব।’