পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এম আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে গোপন নথি চুরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে পাবিপ্রবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। আজ
সোমবার দুপুরে
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এম আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে গোপন নথি চুরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে পাবিপ্রবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। আজ সোমবার দুপুরেপ্রথম আলো

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০১টি অনিয়মের অভিযোগ তোলা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এবার মানববন্ধন করেছেন উপাচার্যের অনুসারীরা। আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে উপাচার্যের অনুসারী পক্ষ ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক নথি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগ তোলেন। তাঁরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

উপাচার্য এম রোস্তম আলীর বিরুদ্ধে ১০১টি অনিয়মের অভিযোগ তোলা ওই শিক্ষক হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম আবদুল আলীম। তিনি ১৬ মার্চ উপাচার্যের বিরুদ্ধে ১০১টি অনিয়মের অভিযোগ তুলে একক প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেন। এতে ক্ষুব্ধ হন উপাচার্য। সম্প্রতি তিনি শিক্ষক এম আবদুল আলীমসহ কয়েকজন শিক্ষককে ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা কেন দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠান। এতে উপাচার্যবিরোধী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পক্ষটি নড়েচড়ে বসে। তাঁরা গতকাল রোববার সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করেন।

এদিকে উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে কর্মসূচি পালনের পর উপাচার্য অনুসারীদের মানববন্ধনের এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে দুই পক্ষকে সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাঁরা একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।

উপাচার্য এম রোস্তম আলী সম্প্রতি এম আবদুল আলীমসহ কয়েকজন শিক্ষককে ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা কেন দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন

আজকের কর্মসূচির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই উপাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলছেন। তাঁরা বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছেন। অন্যদিকে এসব কর্মসূচির বিরুদ্ধে পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছেন উপাচার্যের অনুসারীরা। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অনুসারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমবেত হন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা ক্যাম্পাসে দীর্ঘ মানববন্ধন করেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে তাঁরা অনিয়মের অভিযোগ তোলা শিক্ষক এম আবদুল আলীমের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

default-image

বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশবাসীর সামনে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই একজন শিক্ষক বারবার প্রশাসনের গোপন নথি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে যাচ্ছেন। বেশ কিছুদিন যাবৎ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে অপপ্রচার করে যাচ্ছেন। সবাইকে বিপদের মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন। এই অপকর্মকে সব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে সামগ্রিকভাবে প্রতিহত করতে হবে।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) বিজন কুমার ব্রহ্ম বলেন, ‘প্রশাসনের নিয়ম মেনেই আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কাজ করে থাকি। কিন্তু কিছু ব্যক্তি সে কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আঘাত মেনে নেওয়া যায় না। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।’

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গোপন তথ্য অনুমতি ব্যতীত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা অপরাধ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একজন শিক্ষক এ ধরনের কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন। একজন শিক্ষকের এহেন কর্মকাণ্ডে আমরা শিক্ষকসমাজ লজ্জিত। আমরা তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

ইতিহাস ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, দাপ্তরিক তথ্য প্রচার করা আইনত অপরাধ। অনুমোদন ব্যতীত কেউ দাপ্তরিক তথ্য প্রকাশ করতে পারে না।

মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. ফজলুল হক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (চলতি দায়িত্ব) তাওহীদা খানম, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. হাসিবুর রহমান, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হারুনর রশিদ, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. কামরুল হাসান, জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফারুক হোসেন চৌধুরী, সহকারী প্রক্টর মো. ফারুক আহম্মেদ, কর্মচারী পরিষদের সভাপতি মো. মহিউদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহরিয়ার হোসেন প্রমুখ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্যর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা শিক্ষক এম আবদুল আলীম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা কোনো অপরাধ নয়। শিক্ষকতার মতো দায়িত্বশীল পেশায় থেকে অনিয়ম-দুর্নীতি মেনে নেওয়াটাই বরং অপরাধ। দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে আমি উপাচার্যর অনিয়ম মানতে পারিনি। আর এ জন্যই আমার পদোন্নতি আটকে রেখে কনিষ্ঠ শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। আমাকে মামলা-হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। তবে কোনো কিছুতেই আমার মুখ বন্ধ করা যাবে না। অনিয়ম-দুর্নীতি হলে কথা বলবই। আশা করছি সঠিক তদন্ত হলে উপাচার্যের অনিয়মগুলোও উন্মোচিত হবে।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন