default-image

এবার সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় এক দোয়া মাহফিলে যোগ দিতে আসবেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মামুনুল হক। জেলার দিরাইয়ে এক সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে যাওয়ার পর পার্শ্ববর্তী শাল্লায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে যখন তোলপাড় চলছে, তখন আবার তাঁর সুনামগঞ্জে আসার প্রস্তুতি চলছে।

জামালগঞ্জ উপজেলা সদরের খাদিমুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা কাওসার আহমদ বলেন, ‘খতমে বোখারি’ উপলক্ষে আগামী রোববার উপজেলা সদরের হ্যালিপ্যাড মাঠে দোয়া মাহফিল হবে। এতে অতিথি হিসেবে মাওলানা মামুনুল হক উপস্থিত থাকবেন। এ জন্য তাঁদের প্রস্তুতি চলছে। মাওলানা মামুনুল হক হেলিকপ্টারে জামালগঞ্জ আসবেন। এই আয়োজনের জন্য প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে কাওসার আহমদ দাবি করেন, তাঁরা প্রশাসনকে মৌখিকভাবে সবকিছু অবগত করেছেন।

দিরাইয়ে গত সোমবার হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মামুনুল হক বক্তব্য দেন। এরপর তাঁকে নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামের এক যুবক ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর জের ধরে নোয়াগাঁও গ্রামের পার্শ্ববর্তী চারটি গ্রামের মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে বুধবার সকালে ওই গ্রামে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে গ্রামের ৯০টি ঘর, সাতটি মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় দুটি মামলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেছেন, তিনি পোস্টার, লিফলেটে প্রচারণার মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন। তাঁর কাছে এ ব্যাপারে কেউ অনুমতি নেওয়ার জন্য আসেনি। তবে এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী বলেন, ওই মাদ্রাসার অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে একটি পোস্টারে নিজের নাম দেখে তিনি বিস্মিত হন। এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে আয়োজকেরা কোনো যোগাযোগ না করেই তাঁর নাম পোস্টারে দিয়েছেন। এ জন্য তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। একইভাবে পোস্টারে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল মুকিত চৌধুরীর নামও ছিল।

এ ব্যাপারে মাওলানা কাওসার আহমদ বলেছেন, উনারা এলাকার সম্মানিত ব্যক্তি, তাই তাঁদের নাম পোস্টারে দেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁরা অনুষ্ঠানে থাকবেন না বলে জানানোর পর পোস্টার পরিবর্তন করে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ জানান, তাঁরা পোস্টার, লিফলেটে নাম দেখার পর মাওলানা কাওসার আহমদকে ডেকেছিলেন। তাঁদের না জানিয়ে নাম দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তাঁদের এই অনুষ্ঠানে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। পরে পোস্টার থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ইকবাল আাল আজাদ বলেন, ‘প্রশাসনের কাছ থেকে এই মাহফিলের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। শাল্লার ঘটনা নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে। এ অবস্থায় এখানে এ ধরনের কোনো আয়োজন যাতে না হয়, সে জন্য আমরা বিষয়টি প্রশাসন ও পুলিশকে জানিয়েছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন