বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ রোববার সরেজমিন দেখা যায়, মমিনপুর বাজারে একটি চায়ের দোকানের সামনে জটলা করে কয়েকজন গল্প করছেন। তাঁদের আলোচনার বিষয় ভোট। এ সময় ব্যবসায়ী তোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘প্রার্থীরাই গ্রামের মানুষদের ভাগ করি ফেলাইছে। একই বাড়িত দুই প্রার্থী। কোন পাকে যাইবে ভোটার ও আত্মীয়স্বজনরা।’

কী বিষয়, জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বলেন, এবার একই বাড়ি থেকে দুই ভাই চেয়ারম্যান পদে লড়াইয়ে নেমেছেন। বড় ভাই ফজলার রহমান লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছেন। আর ছোট ভাই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কামরুল ইসলাম প্রামাণিক স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন।

‘প্রার্থীরাই গ্রামের মানুষদের ভাগ করি ফেলাইছে। একই বাড়িত দুই প্রার্থী। কোন পাকে যাইবে ভোটার ও আত্মীয়স্বজনরা।’
তোজাম্মেল হোসেন, স্থানীয় ব্যবসায়ী

ধান-চাল ব্যবসায়ী মোকাররম হোসেন বলেন, ‘জাতীয় পার্টির দুজন, আওয়ামী লীগের তো তিনজন প্রার্থী। এই দুই দলের ভোট ভাগাভাগি হইবে।’

শুধু ভোটার না, দলীয় নেতা-কর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। নির্বাচনের ফলাফলে এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অনেকে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল মিয়া বলেছেন, দলীয়ভাবে যাঁকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হলো, তাঁর বিরুদ্ধে মাঠে নিজ দলের বিদ্রোহী দুজন। আরও তো অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরাও আছেন। এত নেতা-কর্মীরাও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। ভোটে এর প্রভাব পড়বে।

জাতীয় পার্টির ফজলার রহমান বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ শান্ত। তবে দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন।

মুন্সিরহাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, সেখানেও লোকজন নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন। তাঁরা বলেন, প্রথম দিকে সাতজন প্রার্থী থাকায় এলাকায় অনেক উত্তেজনা ছিল। অনেকে ভেবেছিলেন, কেউ কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেন। পরে দেখা গেল সবাই মাঠে আছেন। ফলে এবার দলীয় প্রভাব কম থাকবে এ ইউপিতে। তাই লোকজনের উৎসাহও বেশি।

সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, নির্বাচনের শুরুতে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা ছিল। তবে এখন আর নেই। নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রয়েছে। কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত অভিযোগও পাওয়া যায়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন