আজ সোমবার বিকেলে শহরের টেপাখোলা এলাকার সরকারি ইয়াছিন কলেজ মাঠ থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে মুজিব সড়ক ধরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জনতা ব্যাংকের মোড়, গোরস্থানের মোড়, হাজরা তলার মোড়, ভাঙা রাস্তার মোড়, নতুন বাসস্ট্যান্ড হয়ে রাজবাড়ী রাস্তার মোড় পর্যন্ত যায়। পরে শোভাযাত্রাটি হাসিবুল হাসান লাবলু সড়ক হয়ে সুপারমার্কেটের সামনে দিয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাব চত্বরে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় শামসুল হক একটি খোলা মাইক্রোবাসে দাঁড়িয়ে আশপাশের জনতাকে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর গাড়ির সামনে ও পেছনে ছিল মোটরসাইকেলের বহর।

শোভাযাত্রা শেষে শামসুল হক বলেন, ‘আমি প্রচারবিমুখ লোক। আমি বিলবোর্ড, ব্যানার, গেট বানাইনি। বৃহত্তর ফরিদপুরের জেলাগুলোতে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে বিলবোর্ড, গেট, ব্যানার কিংবা কোনো নেতার তদবির কাজ করে না। এ জেলাগুলো সম্পর্কে নেতারা যা জানেন, তার চেয়ে অনেক বেশি জানেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনিই জেলাগুলোর নেতা নির্বাচন করেন।’

শামসুল হক বলেন, ‘মোশাররফের (ফরিদপুর-৩ আসনের সাংসদ ও সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন) সঙ্গ ছেড়ে আসার পর আমি ১২ বছরে তাঁর কাছে যাইনি। কিন্তু আজ যাঁরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে চাচ্ছেন, তাঁরা সবাই কোনো না কোনো সময়ে মোশাররফের সঙ্গে কাটিয়েছেন, লাভবান হয়েছেন কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’

শামসুল হক আরও বলেন, রাজনীতি করতে হলে সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠতে হয় এবং রাত ১২টা পর্যন্ত মানুষের কথা শুনতে হয়। যিনি সকাল ১০টায় ঘুম থেকে ওঠেন এবং রাত ৮টার পর যাঁর সঙ্গে কথা বলা যায় না, তাঁর পক্ষে মানুষের সেবা করা সম্ভব নয়। কে বাটপারি করেন, কে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেন, কে সকাল ১০টার আগে ঘুম থেকে ওঠেন না, সেই হিসাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে আছে। তিনি বলেন, ‘আমি মোশাররফের কাছ থেকে সরে আসার পর দুবার নিজে ও একবার স্ত্রীর জন্য সংসদীয় আসনের দলীয় মনোনয়ন কিনেছি। তখন আজাদ (এ কে আজাদ), শামীম (শামীম হক) মনোনয়ন কেনেননি। আর সুবল সাহা (জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি) তো মনোনয়নপত্র কেনার চিন্তাও করেননি।’

default-image

শামীম হক ও এ কে আজাদ দুজনেই বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। এর মধ্যে সুবল সাহা ও শামীম হক এবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী এবং এ কে আজাদ আগামী নির্বাচনে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার মঞ্জুর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য আবদুল সোবাহান মোল্লা, যুব মহিলা লীগের জেলা আহ্বায়ক রুখসানা আহমেদ, জেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অরুণ মন্ডল বক্তব্য দেন।

গত শনিবার সভাপতি পদে আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বিপুল ঘোষ শহরে শোভাযাত্রা বের করেন। জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এ–জাতীয় শোডাউন ইতিপূর্বে ফরিদপুরে দেখা যায়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন