default-image

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষ সালেহ আহমদ ও ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক মো. জামাল উদ্দিনের পদত্যাগ দাবি করেছে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ দাবি জানানো হয়। শনিবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। রোববার সকালে যোগাযোগ করলে জেলার সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার পর সার্বিক অবস্থা আমরা আমাদের অবস্থান থেকে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি। এতে কলেজের অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারের ভূমিকা মোটেই সন্তোষজনক ছিল না। একটি ঐতিহ্যবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনামের স্বার্থে এই দাবি জানিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন

করোনা পরিস্থিতিতে কলেজ বন্ধ থাকা অবস্থায় কী করে ছাত্রাবাসে বহিরাগতরা প্রবেশ করেন, তাঁরা কার প্রশ্রয়ে ছিলেন—এসব প্রশ্ন তুলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'কতিপয় ছাত্র নামধারী দুর্বৃত্ত স্বামী-স্ত্রীকে কলেজ ছাত্রাবাসে ধরে নিয়ে স্বামীকে আটকে স্ত্রীকে ধর্ষণ করে ঐতিহ্যবাহী সিলেট এমসি কলেজকে কলুষিত করেছেন।’ সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের করে আইনের আওতায় নেওয়ার দাবি জানায়।

কলেজ কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে আদৌ কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন কিনা—এমন প্রশ্ন তুলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, 'আমরা সিলেট এমসি কলেজের অদক্ষ, দায়িত্বহীন অধ্যক্ষ ও ছাত্রাবাসের সুপারের (তত্ত্বাবধায়ক) পদত্যাগ দাবি করছি। ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তারা কোনো দলের হতে পারে না। ধর্ষকদের কোনো দল নেই। তাদের পরিচয় একটাই, তারা ঘৃণ্য অপরাধী।’

গত শুক্রবার রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে জিম্মি করে তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ছাত্রাবাসে 'ছাত্রলীগের দখল করা কক্ষ' হিসেবে পরিচিত একটি কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত বলে যাদের নাম এসেছে তাঁরা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কলেজ কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ওই রাতে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্বে থাকা ছাত্রাবাসের চুক্তিভিত্তিক নিযুক্ত দুই কর্মীকে বরখাস্ত করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
জেলা আওয়ামী লীগের দাবির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এমসি কলেজের অধ্যক্ষ সালেহ আহমদ এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মন্তব্য পড়ুন 0