default-image

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ, সিলেট সরকারি কলেজ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান টিলাগড়ে। এলাকাটি ‘শিক্ষাঞ্চল’ হিসেবে পরিচিত। সেই শিক্ষাঞ্চল এখন হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের অভয়ারণ্য। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ছাত্রলীগের ছয়জনের নামে মামলা হয়েছে।

অপরাধের অভয়ারণ্য হয়ে ওঠা টিলাগড়কে ‘সন্ত্রাসী ও গডফাদারমুক্ত’ করার দাবি জানিয়েছে ‘দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা’ নামের নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। তারা ধারাবাহিক কর্মসূচির পর এমসি কলেজের প্রধান ফটকের এক পাশে ‘লাল নিশান উড্ডয়ন’ কর্মসূচি পালন করেছে গতকাল শনিবার বিকেলে। প্রধান ফটকের এক পাশে লাল নিশান, আরেক পাশে ব্যানার সাঁটিয়ে সন্ত্রাসী ও গডফাদারদের হটিয়ে শিক্ষার্থী, নারী ও সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ করার দাবি জানানো হয়।

ছাত্রাবাসে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় একে একে গ্রেপ্তার হন ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিতি ছয়জন। ছাত্রাবাসের বাইরে থেকে সহযোগিতা করায় আরও দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন।

বিজ্ঞাপন

করোনাকালে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসে এ রকম ঘটনায় দলমত-নির্বিশেষে প্রতিবাদ শুরু হয়। ঘটনার পরের দিন থেকে সিলেটসহ সারা দেশে প্রতিবাদ হয়। এর মধ্যে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা ক্রমে বেড়ে যাওয়ায় সিলেটে শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী ও নাগরিক সংগঠনের কর্মীরা গঠন করেন একটি মোর্চা। ‘দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা’ নামের এই নাগরিক মোর্চা অপকর্মের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি তোলেন। গত বুধবার ও শুক্রবার দুটো নাগরিক সমাবেশ করার পর শনিবার এমসি কলেজ ফটকে লাল নিশান সাঁটানো হয়। এর আগে টিলাগড় মোড় থেকে লাল নিশান ও লাল ফিতা উঁচিয়ে মিছিল হয়।

লাল নিশান সাঁটানোর পর ফটকের সামনে প্রতিবাদী সভায় বক্তব্য দেন ‘দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা’র সংগঠক আবদুল করিম চৌধুরী, মোহাম্মদ আশরাফুল কবীর, দেবাশীষ দেবু, দেবব্রত চৌধুরী, বিমান তালুকদার, নিরঞ্জন সরকার, প্রলয় দেব, রাজীব রাসেল, অদিতি দাশ, হিতাংশ কর, সঞ্জয় দাশ, ইয়াকুব আলী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, এমসি কলেজ দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণেও এটি বিখ্যাত। এখানে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নানা স্থান থেকে দর্শনার্থী-পর্যটকেরা আসবেন। সবার জন্যই এটি উন্মুক্ত ও অবারিত থাকা উচিত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটি সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। কেউ কলেজে ঘুরতে এলেই তাঁকে হয়রানি ও যৌন নিপীড়ন করা হয়। ছিনতাইয়ের শিকারও হন অনেকে। কেবল এমসি কলেজে নয়, পুরো টিলাগড় এলাকাতেই অপরাধীদের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। গডফাদারদের আশ্রয়ে এই অপরাধীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দোষীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা না হলে এই এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ থেকে যাবে। মানুষজন এখানে এসে হয়রানির শিকার হবেন। নারীরা নিপীড়িত হবেন।

লাল নিশান ওড়ানো শেষে ‘দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্ষণ, যৌন হয়রানিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে জাগিয়ে তুলতে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক সভা করা হবে। সাধারণ মানুষদের নিয়ে ধর্ষক ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0