এরশাদের কবর জিয়ারত করলেন বিদিশা

বিজ্ঞাপন
default-image

একটি গ্রুপের ভুল বোঝানোর কারণে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও বিদিশা সিদ্দিকের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এ জন্য তাঁরা সংসার করতে পারেননি।

আজ সোমবার বিকেলে রংপুরের পল্লী নিবাসে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এরশাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিদিশা এসব কথা বলেন।

এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা বলেন, ‘সব সময় এরশাদ সাহেবকে একটি গ্রুপ ভুল বোঝানো ও আমাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরিতে ব্যস্ত ছিল। তাদের জন্য আমরা সংসার করতে পারিনি। আজও সেই গ্রুপটি সক্রিয় আছে। তারা এরিকের ভালো চায় না।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রাসাদ রাজনীতির শিকার দাবি করে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৪ বছর পর আমি রংপুরে এলাম। যেদিন এরশাদ সাহেবের সঙ্গে এরিককে নিয়ে রংপুরের মাটিতে পা রাখি, রাস্তার দুই পাশে ফুলে ফুলে মানুষ আমাকে বরণ করে নিয়েছিলেন। অনেক শখ করে এরশাদ সাহেব আমাকে বিয়ে করেছিলেন। সুখের সংসার ছিল আমাদের এই সন্তান নিয়ে। কিন্তু সেটি সহ্য হয়নি অনেকের। কারণ, এটি রাজনৈতিক পরিবার ছিল। আমরা প্রাসাদ রাজনীতির শিকার।’

রাজনীতিতে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক। এ জন্য তিনি সারা দেশ সফরের কর্মসূচি নিয়েছেন বলেও সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করতে অনেক টাকা লাগে, কিন্তু আমার কাছে টাকা নেই। তবে আমার সাহস আছে। আমার সাহস আমার সন্তান। আমি আমার সন্তানের বাবার কাছে অনেক কিছু শিখেছি। মানুষের কাছে যাওয়া, কথা বলা শিখেছি। রংপুরের মানুষের ঘরে ঘরে আমাকে নিয়ে যেতেন তিনি (এরশাদ)। এই রংপুর থেকে রাজনীতি শিখেছি। আমি কিছুই ভুলিনি।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

এ সময় সাংবাদিকদের কাছে এরিক এরশাদ বলেন, ‘আমি আমার মাকে নিয়ে রংপুরে এসেছি বাবার কবর জিয়ারত করার জন্য। আমার অনেক আগেই আসার কথা ছিল, কিন্তু নানা কারণে আসতে পারিনি। আমার মাকে আব্বা অনেক ভালোবাসতেন। তাই বাবার কবর দেখাতে মাকে নিয়ে এসেছি।’

দুপুর ১২টার দিকে রংপুর নগরে পল্লী নিবাসে প্রবেশ করেন বিদিশা সিদ্দিক ও এরিক এরশাদ। তাঁরা সকালে ঢাকা থেকে আকাশপথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। পরে সেখান থেকে প্রাইভেট কারে করে পল্লি নিবাসে আসেন। বেলা আড়াইটার দিকে এরিক তাঁর মা বিদিশা সিদ্দিককে সঙ্গে নিয়ে বাবার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তাঁদের এ সফরের সঙ্গে ছিলেন এরশাদ কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালনামণ্ডলীর সদস্য কাজী রুবায়েত হাসান, ট্রাস্টের প্রেস সচিব ও বিদিশা সিদ্দিকের একান্ত সহকারী সচিব সায়েম সাকলায়েন প্রমুখ।

এদিকে হঠাৎ তাঁদের আগমনে রংপুরে জাতীয় পার্টির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কৌতূহল সৃষ্টি হয়। তবে এ ব্যাপারে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির নেতারা তেমন কিছু বলতে চাননি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন