বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বন্দর কদম রসুল কার্যালয়ের সামনে আলী আহাম্মদ চুনকা সড়কে দাঁড়িয়ে তর্ক জুড়ে দেন রিকশাচালক আনোয়ার হোসেন ও বাচ্চু মিয়া। তাঁরা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার ভোটার। পৌষের সকালে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমজীবীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, সিটি করপোরেশন হওয়ার এক দশকে এলাকায় কেমন পরিবর্তন দেখেছেন তাঁরা।

আনোয়ার ও বাচ্চু বন্দরের একরামপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের বাড়ির পাশ ধরেই চলে গেছে ১০০ ফুট প্রশস্ত আলী আহাম্মদ চুনকা সড়ক। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কদম রসুল পৌরসভা থাকার সময় খানাখন্দে ভরা ছিল বন্দরের প্রধানতম এই সড়ক। সিটি করপোরেশন হওয়ার পর মাত্র ১৮ ফুটের সরু সড়কটিই ১০০ ফুট প্রশস্ত সড়কে পরিণত হয়েছে। সড়কজুড়ে বাহারি বাতি, ঘন সবুজ গাছ আর সড়কের পাশ ধরে প্রশস্ত ফুটপাতের ফলে পাল্টে গেছে কদম রসুল এলাকার পুরোনো চিত্র।

নারায়ণগঞ্জের অন্যতম প্রাচীন এলাকা কদম রসুল। প্রায় ২৫০ বছরের পুরোনো কদম রসুল দরগাহের জন্য বিখ্যাত এই এলাকার নামে ১৯৯৩ সালে কদম রসুল পৌরসভা গঠিত হয়। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার সঙ্গে কদম রসুল পৌরসভাকে যুক্ত করে যাত্রা শুরু হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের। কদম রসুল পৌরসভার আওতাভুক্ত এলাকাগুলোকে সিটি করপোরেশনের ১৯ থেকে ২৭ নম্বর পর্যন্ত ৯টি ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার ও আজ রোববার ২২ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌরসভা হলেও ১৯৯৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ১৮ বছরে কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পাননি তাঁরা। প্রশাসকের অধীনে থাকা পৌরসভাটি একেবারেই নিষ্ক্রিয় ছিল। অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে এলাকাটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছিল। তবে সিটি করপোরেশন হওয়ার পর গত ১০ বছরে তাঁদের এলাকায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। এলাকার পাড়া–মহল্লা থেকে শুরু করে প্রতিটি অলিগলিতে পাকা সড়ক, সড়কজুড়ে বাতি ও নালা হয়েছে। বিখ্যাত সিরাজউদ্দৌলা খেলার মাঠ ও পুকুরের সংস্কার হয়েছে, গতি এসেছে বর্জ্য সংগ্রহে। তবে এত কিছুর মধ্যেও নাগরিক সেবার মান নিয়ে নানান ঘাটতির কথা জানিয়েছেন তাঁরা।

২৩ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলবাগ এলাকার ভোটার মহিউদ্দিন মিয়া মনে করেন, সিটি করপোরেশন হওয়ার পর গত ১০ বছরে এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা বসতির পরিমাণ বেড়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমেছে জলাভূমি, খোলা জায়গা ও গাছের পরিমাণ। তিনি মনে করেন, বন্দরে বসতি স্থাপনে ঠিকঠাক নিয়ম মানা না হলে নারায়ণগঞ্জ শহরের মতো বন্দরও একটি অপরিকল্পিত ঘিঞ্জি শহরে পরিণত হবে।

পেশায় শিক্ষক নবীগঞ্জ এলাকার মোহাম্মদ আলীর অভিযোগ, আলী আহাম্মদ চুনকা সড়ক ১০০ ফুট প্রশস্ত হলেও পথচারীরা মাত্র ৫০ ফুট সড়ক ব্যবহার করতে পারেন। বন্দর খান বাড়ী মোড় থেকে নবীগঞ্জ মোড় পর্যন্ত সড়কটি দখল করে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসা করা হচ্ছে।

আজ সকালে কথা হয় ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কোর্টপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী মো. ফারুক, ইউনুস মিয়া ও আশ্রব আলীর সঙ্গে। তাঁরা মনে করেন, সিটি করপোরেশন হওয়াটা তাঁদের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। শুকনো মৌসুমেও যেসব সড়ক পানিতে ডুবে থাকত, এখন বর্ষাকালেও সেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা যায় না। এতে করে জমির মূল্য বেড়েছে, এলাকায় লোকজন বেড়েছে। সঙ্গে বেড়েছে আয়–উপার্জনের পথ। ফলে সিটি করপোরেশনকে বাড়তি কর দিতেও আপত্তি নেই তাঁদের।

আশ্রব আলীর দাবি, স্বাধীনতার পর ৪০ বছরে এলাকায় যতটুকু উন্নয়ন হয়েছিল, সিটি করপোরেশনের দশ বছরে এর চেয়ে অনেক বেশি উন্নয়ন হয়েছে। তবে এলাকায় মশার উৎপাত ও সিটি করপোরেশনের সরবরাহ করা পানি পানযোগ্য নয় বলে অভিযোগ তাঁর।

ইউনুস মিয়া অভিযোগ করেন, প্রতিদিন বর্জ্য সংগ্রহের কথা থাকলেও কখনো কখনো টানা দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত বর্জ্য সংগ্রহের গাড়ি আসে না। এলাকার ভেতর নতুন নতুন সড়ক হওয়ার পর যানবাহন চলাচল বেড়েছে। দুর্ঘটনা রোধে সড়কে গতিরোধকও দেওয়া হয়েছে। তবে সেগুলোর উচ্চতা বেশি হওয়ায় এবং গতিরোধকগুলো আলাদাভাবে রং দিয়ে চিহ্নিত না করায় দুর্ঘটনা ঠেকানো যাচ্ছে না। তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়ন হয়েছে, এখন সেবার মান বাড়াতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন