বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালের মে মাসে ঝালকাঠি সদরের খাওক্ষির গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় কনস্টেবল ইমরানের। দাম্পত্য কলহের জেরে চলতি বছরের মার্চে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের সময় সিদ্ধান্ত হয়, শিশু দুটির ভরণপোষণের জন্য ইমরান প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে দেবেন। সুমাইয়ার দাবি, বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে সন্তানদের কোনো ভরণপোষণ ও চিকিৎসা দিচ্ছেন না ইমরান।

থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইমরান ও সুমাইয়ার সংসার টিকিয়ে রাখাতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিস হয়। কিন্তু একপর্যায়ে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। সুমাইয়া শিশু দুটির চিকিৎসার খরচ মেটাতে না পেরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে রেখে চলে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনের চায়ের দোকানি মাহফিল মিয়া বলেন, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে একজন নারী তাঁর দুই শিশুসন্তানকে চেকপোস্টের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সামনে রেখে যান। যাওয়ার সময় তিনি বলে যান, ‘তোমাদের সন্তান তোমাদের কাছেই থাক।’

সন্ধ্যায় ঝালকাঠি সদর থানায় গিয়ে দেখা যায়, শিশু দুটি গলা ফাটিয়ে কান্না করছে। নারী ও শিশু হেল্পডেস্কের এক নারী কনস্টেবল শিশু দুটিকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। শিশু দুটির শরীরের তাপমাত্রাও অনেক বেশি ছিল।

সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘১২ সেপ্টেম্বর থেকে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিশু আরাফ ও আয়ান ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি। রোববার সকালে চিকিৎসকেরা শিশু দুটির বিভিন্ন পরীক্ষা–নিরীক্ষা করতে বলেন। এতে প্রায় ছয় হাজার টাকার প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি কনস্টেবল ইমরানকে জানানো হলেও তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমনকি বিচ্ছেদের পর একবারের জন্যও সন্তানদের খোঁজ নেননি তিনি। তাই বাধ্য হয়ে শিশু দুটিকে নিয়ে পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিনের সাক্ষাতের জন্য যাই। কিন্তু প্রধান ফটকের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইমরান মিয়া ও মো. সুমন নামের দুই পুলিশ সদস্য ভেতরে যেতে দেননি। তাই বাধ্য হয়ে শিশুসন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে রেখে চলে এসেছি।’

কনস্টেবল ইমরান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতি মাসে শিশু দুটির ভরণপোষণের জন্য তিন হাজার টাকা সুমাইয়ার ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দিচ্ছি। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী তাদের খোঁজখবর নিই। কিন্তু মা হয়ে কীভাবে সন্তানদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ফেলে গেল।’

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি পারিবারিকভাবে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি। শিশুটির দাদা–দাদিকে খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এলে শিশু দুটিকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন