default-image

ওএসডি হওয়া কুমিল্লার দাউদকান্দির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনূর আলম নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়েই নতুন এসি, মেঝের কার্পেট ও গাড়ির বাম্পার নিয়ে চলে গেলেন। গত বৃহস্পতিবার আর্টিক্যাল ৪৭ খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কর্মকর্তার কার্যালয়ের কক্ষের নতুন এসি, মেঝের কার্পেট, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়ির বাম্পার নিয়ে তিনি চলে যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন কর্মচারী আজ সকালে বলেন, ‘স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়ির বাম্পার, নতুন এসি ও মেঝের কার্পেট স্যারের নিজস্ব উপহার পাওয়া সম্পদ। তাই স্যারের সম্পদ স্যার নিয়ে গেছে।’

এদিকে ওএসডি হওয়া মোহাম্মদ শাহীনূর আলমের স্থলে আজ সকালে নতুন দায়িত্ব নিলেন ২৫তম বিসিএসের (স্বাস্থ্য) কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম।

নতুন যোগ দেওয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়ির বাম্পার, নতুন এসি ও মেঝের কার্পেট খুলে নেওয়ার বিষয়টি আমি একাধিক সূত্রে শুনেছি।’

বিজ্ঞাপন

আজ সকাল ১০টায় কুমিল্লার সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসেনসহ নতুন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে পৌঁছান। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক, সেবিকা, কর্মকর্তা–কর্মচারীরা নব যোগদানকারী কর্মকর্তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

তবে পল্লিচিকিৎসকেরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলামকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিতে এলেও চিকিৎসকদের ব্যস্ততার মধ্যে সুযোগ না পেয়ে ফুল নিয়ে চলে যান।

পল্লিচিকিৎসকদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে (ভাইরাল) পড়ার পর গত সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শাহীনূর আলমকে ওএসডি করার পদক্ষেপ নেয়।

মোহাম্মদ শাহীনূর আলমকে নিয়ে কয়েক দিন ধরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। এতে দেখা গেছে, তিনি পল্লিচিকিৎসকদের কাছ থেকে তালিকা ধরে মাথাপিছু বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আদায় করছেন। এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, শাহীনূরের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিন্ডিকেট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অন্য চিকিৎসকদের মাধ্যমে নিম্নমানের ভিটামিন সিরাপ ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট ব্যবস্থাপত্রে লিখে থাকেন। পাশাপাশি এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্তর্বিভাগ ও বহির্ভাগের রোগীদের বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা–নিরীক্ষায় বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। এর বাইরে ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়নকাজ সঠিকভাবে না করার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া অভিযোগ ওঠে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাঠে দাঁড়িয়ে ফুসকা বিক্রেতা অরুণ দেবনাথের কাছ থেকেও মাসিক তিন হাজার টাকা আদায় করা হতো।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন