default-image

রাজশাহীতে এখন খোলাবাজারে (ওএমএস) যে আটা দেওয়া হচ্ছে তা নিম্নমানের এবং খাওয়ার অনুপযোগী বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এই আটার রুটি স্বাদে তেতো, গন্ধও লাগছে। ফলে এই আটার তৈরি রুটি ভোক্তারা খেতে পারছে না। আজ রোববার অনেককেই ওএমএসের বিক্রয়কেন্দ্রে এসে আটা হাতে নিয়ে গন্ধ শুঁকে না কিনে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

গত সপ্তাহ থেকেই নিম্নমানের আটা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। ওএমএসের কয়েকজন পরিবেশেকের সঙ্গে কথা বলে আটার মান খারাপ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাও। খাদ্য বিভাগ থেকে নিম্নমানের আটা বিক্রি বন্ধের কথা বলা হলেও আজ নগরের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে নিম্নমানের আটা বিক্রি হতে দেখা গেছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এখন রাজশাহী নগরের ৩০টি ওয়ার্ডে ৩৩ জন পরিবেশকের মাধ্যমে আটা বিক্রি হচ্ছে। প্রত্যেক পরিবেশক ১ দিন পরপর ৯৩৭ কেজি আটা বরাদ্দ পান। ১ দিন ১৬ জন এবং পরের দিন ১৭ জন পরিবেশকের মাধ্যমে প্রতিদিন ১৫ মেট্রিক টন আটা বিক্রি করা হয়। ১৮ টাকা কেজি দরে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ৫ কেজি আটা কিনতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কৃষকের কাছ থেকে গম কেনার পর খাদ্য বিভাগের গুদামে রাখা হয়। খোলাবাজারে আটা বিক্রি শুরু হলে ২০ জন মিলারের মাধ্যমে গমগুলো ভাঙানো হয়। এরপর মিল থেকেই আটা সংগ্রহ করেন পরিবেশকেরা। তারপর তা পরিবেশকদের নির্দিষ্ট পয়েন্টে বিক্রি করা হয়।

ভোক্তাদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক এবং আহরণ ও ব্যয়ন কর্মকর্তা সাহিদার রহমান বলেন, আটা নিম্নমানের এ অভিযোগ পেয়ে তিনি বিক্রি বন্ধ করতে বলেছেন। যে মিলের আটা নিম্নমানের বলে শুনছেন, সেই মিলমালিককেও তিনি ডেকে পাঠিয়েছেন।

default-image

আজ সকালে নগরের কাজলা ও চৌদ্দপাই এলাকায় ওএমএসের বিক্রয় পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, তীব্র রোদের মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষেরা আটা কেনার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। ১৮ টাকা কেজি দরে গমের আটা বিক্রি করা হচ্ছে। এর আগে যাঁরা এই আটা কিনেছেন এমন কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয়।

কাজলা পয়েন্টের একজন ক্রেতা বললেন, আটায় গন্ধ। এই আটার রুটি খেতে তেতো। এর আগে নিয়ে গিয়ে খেতে কষ্ট হয়েছে। তিনি একই রকম আটা দেখে না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। নগরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের এই বাসিন্দা নিজের নাম পত্রিকায় না ছাপার জন্য অনুরোধ করেন।

একই এলাকার অপর একজন ক্রেতা চাল ও আটা দুটিতেই ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আটা গন্ধ হলেও তিনি নিয়েছেন। গন্ধ হলেও কেন কিনছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না নিয়ে কী করব?’ সেখানে স্থানীয় নারীসহ বেশ কয়েকজন ক্রেতাকে আটার গন্ধ শুঁকতে দেখা যায়। দুর্গন্ধ দেখে অনেকেই আটা না নিয়ে ফিরে যান।

নিম্নমানের আটা কেন দিচ্ছেন, জানতে চাইলে পরিবেশকের একজন কর্মচারী আটা বিক্রি বন্ধ করে আটার বস্তার ওপর তুলে রাখলেন। কিছুক্ষণ পরে পরিবেশক আবদুর রাজ্জাক এসে ওই আটাই আবার বিক্রি করা শুরু করেন। সেখানে টিসিবির একজন তত্ত্বাবধায়ক দাঁড়িয়েছিলেন। আটা নিয়ে ক্রেতাদের এই অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি কোনো কথা বলেননি।

কেন খারাপ আটা মানুষকে খাওয়াচ্ছেন, জানতে চাইলে কাজলা কেন্দ্রের পরিবেশক আবদুর রাজ্জাক ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘আপনি আটা বিক্রি বন্ধ করার কে। আমাদের অফিস থেকে যে আটা দেওয়া হয়েছে, তাই আমরা বিক্রি করছি। আপনাদের কোনো অভিযোগ থাকলে অফিসে গিয়ে করেন।’

নগরের চৌদ্দপাই এলাকাতেও একই করম আটা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। একজন ক্রেতা বলেন, আটা পানিতে মেশানোর সঙ্গে সঙ্গে একটা দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। নাকে ধরা যায় না। তেতো রুটি গেলা যাচ্ছে না।

কাজলা পয়েন্টের একজন ক্রেতার ব্যাগ থেকে কিছু আটা নিয়ে এসে পানিতে মিশিয়ে নাকের কাছে ধরলে মনে হচ্ছে, দীর্ঘদিন গুদামে পড়ে থাকা খাদ্যবস্তুর যে রকম গন্ধ হয়, সেই গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। বেশিক্ষণ নাকে ধরে রাখা যাচ্ছে না।

রাজশাহী নগরের শিরোইল কলোনি এলাকার ওএমএস পরিবেশক মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমি গত সপ্তাহে ভালো আটা পেয়েছিলাম। এ সপ্তাহে একটু খারাপ। সরকারি গমটাই এ রকম। কখনো ভালো, কখনো খারাপ।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন