বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহায়তায় সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা ২০১১ সাল থেকে ‘খুদে ডাক্তার’ কর্মসূচি শুরু করছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রতি ক্লাস থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থীকে বাছাই করে একটি দল গঠন করা হয়। তারাই ‘খুদে ডাক্তার’ নামে পরিচিত। শিক্ষকেরা বলছেন, সরকারের এ উদ্যোগের কারণে খুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুনে দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি সখীপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। একজন করে ডাকা হচ্ছে। এরপর নাম লিখে ওজন, তাপমাত্রা ও উচ্চতা মাপা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি তদারক করছেন একজন শিক্ষক।

default-image

সখীপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহীনা আক্তার জানান, খুদে ডাক্তারের দলটি বছরে দুবার বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর ওজন ও উচ্চতা মেপে লিপিবদ্ধ করে। তারা দৃষ্টিশক্তিও পরীক্ষা করে। এরপর ওই তালিকা একজন শিক্ষক পর্যবেক্ষণ করেন। তালিকায় যেসব শিক্ষার্থীর উচ্চতা অনুসারে ওজন কম বা অস্বাভাবিক বেশি এবং যাদের দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা রয়েছে, সে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের স্কুলে ডেকে বিষয়টি জানানো হয়। এ বিষয়ে তাঁদের পরবর্তী দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

খুদে ডাক্তার ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিদোয়ান তানজিল, জান্নাত ও অর্পা জানায়, এই দায়িত্ব পালন করতে তাদের খুব ভালো লাগো। তারা ভবিষ্যতে পেশায় ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে চায়।

উপজেলার চাম্বলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে ডাক্তার দলের গাইড শিক্ষক শেফালী আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, গত মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে বেশ মজা পায়। এই কাজের মাধ্যমে তারা মনে মনে ডাক্তার হওয়ার একটা স্বপ্ন দেখা শুরু করে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা হয়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রাফিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলার ১৪৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০ হাজার ৫৯৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়েই এ কর্মসূচি চলছে। ২৩ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এবারের কর্মসূচি ৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে অসুস্থ, পুষ্টিহীন ও দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা থাকা শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের অভিভাবকের ডেকে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন তৈরি হচ্ছে। এতে তারা পড়াশোনায় মনোযোগী হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন