একরামুল করিম চৌধুরীর এ ঘোষণায় জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বছরখানেকের বেশি সময় ধরে চলে আসা অস্থিরতায় নতুন মাত্রা যোগ হলো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা সাংসদ একরামুল করিমের ঘোষণাকে ওবায়দুল কাদেরকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে চাপে ফেলার একটা কৌশল বলে মনে করছেন। পাশাপাশি এর মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে সদর আসনে (নোয়াখালী-৪) নিজের মনোনয়ন নিশ্চিত রাখার একটি আগাম কৌশল হিসেবেও দেখছেন তাঁরা।

ইফতার অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘অনেক বছর পর কবিরহাটের মানুষের ঘামের গন্ধ পাচ্ছি আমি বাতাসে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত কী হবে, আমি জানি না। তবে আপনারা যদি চান নোয়াখালী-৪ ও নোয়াখালী-৫ দুই আসন থেকে আমি নমিনেশন চাইব। জননেত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত দেবেন।’

এই সাংসদ আরও বলেন, ‘কবিরহাট আমাদের এলাকা। আমরা কারও কাছে মাথা নত করে চলব না। ছাত্রলীগ, যুবলীগকে উঠে আসতে হবে। নেতৃত্ব দিতে হবে এই উপজেলাকে। নোয়াখালী আওয়ামী লীগে আজ দুর্দশা। এক প্যাকেট ইফতারিও কাউকে খাওয়াতে তারা পারেনি। আমার ভেতর অনেক কষ্ট। ২০০১ সাল থেকে রক্ত ক্ষয়ে ক্ষয়ে এই সংগঠনকে দাঁড় করিয়েছি।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘কাদের ভাই, আপনাকে বাবার পরে স্থান দিয়েছিলাম। কিন্তু আপনি ধরে রাখতে পারেননি। আপনার আপন ভাইয়ের কথায় আপনি আমাকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বাদ দিয়ে দিলেন। এর মধ্য দিয়ে শুধু আমাকে বাদ দেননি, সারা নোয়াখালী আওয়ামী লীগের পরিবারকে তছনছ করে দিয়েছেন। আজকে যাকে–তাকে আহ্বায়ক বানিয়ে দিয়েছেন।’

সাংসদ একরামুল করিমের ঘোষণার বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন শাহিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘উনি এখনো আওয়ামী লীগের এমপি। ওনাকে দলীয় শৃঙ্খলার মধ্যে থাকতে হবে। তাঁর এই ঘোষণার মধ্যে প্রমাণিত হলো, তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত মানেন না। ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং আমাদের নোয়াখালীর ঠিকানা। তাঁর আসনে এভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়া দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী। এ বিষয়ে দলের হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নেবেন।’

এর আগে গত ১০ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল থেকে ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তৃতায় ওবায়দুল কাদেরকে নোয়াখালীর সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি বলেন সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী। নোয়াখালী-৪ আসন থেকে গত তিনটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হন তিনি। টানা ১৭ বছর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন একরামুল করিম। ২০১৯ সালের সম্মেলনেও তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কিন্তু ওই কমিটি অনুমোদন হওয়ার আগেই গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁকে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর ৮৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে তাতে সাংসদ একরামুল করিমকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন