default-image

৯ বছরের আজমিতা আক্তার ও ১১ বছরের শাকিল হোসেনকে বুকে চেপে তাদের দাদি হাছনা খাতুন হাউমাউ করে কাঁদছেন। ‘এল্যা কায় হামাক দেখপে, মোর দাদু ভাইগুলার কী হইবে? ওরা কাক আব্বু কইবে, মুই মইলে মাটি কায় দিবে।’

বৃদ্ধ শাশুড়ির এসব কথা শুনে শাহিনা বেগম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। লোকজন মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরান। হঠাৎ তিনিও কান্না থামিয়ে বলতে থাকেন, ‘গাড়ি মোর জাদুর ঘরক এতিম বানাইল। এল্যা মুই ওমাক কোনটে থাকি খাওয়াইম, পড়ার খরচ কোনটে পাইম?’

মেয়ে আজমিতা খাতুন একবার দৌড়ে বাবার লাশের কাছে যায়, আবার মায়ের কাছে ছুটে আসে। মাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘মা বাবা শুয়ে আছে কেন? বাবা তো কথা কয় না? বাবার কী হইছে?’

এই দৃশ্য সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের হাজাজ উদ্দিনের (৪০) বাড়িতে।

বিজ্ঞাপন

হাজাজের বাবা ছহির উদ্দিন ১২ বছর আগে মারা গেছেন। তাঁর কোনো ভাইবোন নেই। নেই কোনো জমিজমা। দিনমজুরি করে সংসার চলাতেন। তাঁর তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে দুজন স্কুলে পড়ে। কাজ শেষে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাজার করার উদ্দেশে বের হন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা মেডিকেল মোড় বাজারে এমদাদুলের দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ রংপুর থেকে ছেড়ে আসা ঠাকুরগাঁওগামী একটি পরিবহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই দোকানে ঢুকে যায়। এতে ঘটনাস্থলে হাজাজ নিহত হন। গাড়িতে থাকা ৯ যাত্রী আহত হন। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।

খবর পেয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান, ইউএনও আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আড়াই ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে অবরোধকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তারাগঞ্জ বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি ও ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, হাজাজের মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। তাঁর কোনো জমিজায়গা নেই। তাঁর অবর্তমানে পরিবারটির ভার কে নেবে?

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহম্মেদ বলেন, বর্তমান পরিবেশ শান্ত। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পুলিশের হেফাজতে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন