default-image

মাদারীপুরের শিবচর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. আওলাদ হোসেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ওসিকে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমাদানের বেশ কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এটি নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে জানিয়েছেন নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শিবচর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ মঙ্গলবার ছিল মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন। এদিন দুপুরে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আওলাদ হোসেন খান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এ সময় দলীয় নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশীদ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আতাহার ব্যাপারী ও শিবচরের ওসি মিরাজ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, মনোনয়নপত্র জমাদানের সময় পেছনে দাঁড়িয়ে প্রার্থীর কাঁধে হাত দিয়ে রেখেছেন ওসি মিরাজ। আরেকটি ছবিতে দেখা গেছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থী ও নেতা–কর্মীদের সঙ্গে মনোনয়নপত্র ধরে আছেন ওসি।

পৌরসভা নির্বাচন আচরণ বিধিমালার ১১ ধারা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী পাঁচজনের অধিক সমর্থক নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ বা জমা দিতে পারবেন না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিবচর থানার ওসি মিরাজ হোসেন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ইউএনওর সঙ্গে কাগজপত্র রিসিভ (গ্রহণ) করছিলেন। মনোনয়পত্র গ্রহণ করা তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি কোনো উত্তর দেননি। ওসি বলেন, ‘শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাশে বসা ছিলাম, তাঁর অনুরোধেই ছবি তুলেছি। এখানে এর বাইরে অন্য কিছু নয়। যা হয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত।’

শিবচর থানার ওসি যদি মনোনয়নপ্রত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে ছবি তুলে থাকেন, তাহলে তিনি কাজটি ঠিক করেননি।
মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, পুলিশ সুপার, মাদারীপুর
বিজ্ঞাপন

একই সুরে ওসির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকতা মো. আসাদুজ্জামান। তিনি প্রথম আলোকে, শিবচর থানার ওসি আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলেন। ওসি স্বেচ্ছায় ছবি তুলতে আসেননি। নেতা–কর্মীদের অনুরোধেই তিনি ছবি তোলেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হয়েছে। প্রচারটা যেভাবে করা হচ্ছে, আসলে ঘটনা এমন নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

default-image

তবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ওসি কখনোই প্রার্থীর সঙ্গে এসে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে প্রার্থী যেমন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন, ওসিও তেমনি দায়িত্বে অবহেলা করেছেন।

এ ঘটনা নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আওলাদ হোসেন বলেন, ওসির তাঁর সঙ্গে থাকার কথা নয়। তিনি কেন তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন, তা তিনি জানেন না। তবে ওসি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখান থেকেই হয়তো ছবি তুলেছেন। আরও অনেক প্রার্থীর সঙ্গেই ওসি ছবি তুলেছেন বলে তিনি জেনেছেন।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, পুলিশের কোনো কর্মকর্তা কোনো নির্বাচনে প্রার্থীর সঙ্গে একত্রে ছবি তুলতে পারেন না। তবে আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখা ও নিরাপত্তা প্রদানে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যেতে পারেন। পুলিশ সুপার বলেন, ‘শিবচর থানার ওসি যদি মনোনয়নপ্রত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে ছবি তুলে থাকেন, তাহলে তিনি কাজটি ঠিক করেননি। ছবিটি আমি এখনো দেখিনি। যদি ওসি এমন ছবি তুলে থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন