বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত মেয়েটির বিয়ে ঠেকানোর পাশাপাশি পড়াশোনার খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন। ছাত্রীর দরিদ্র অভিভাবকেরা এতে খুব খুশি।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের গাড়াবাড়িয়া ছাগলাপাড়ার বাসিন্দা ওই কিশোরীর স্বজনেরা গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিয়ের আয়োজন করেন। প্রস্তুতিও প্রায় শেষ দিকে ছিল। অপেক্ষা শুধু বরসহ বরযাত্রী আগমনের। বর এলেই বধূর সাজে কিশোরীকে ছুটতে হবে শ্বশুরবাড়িতে। কিন্তু বরযাত্রী পৌঁছানোর আগেই সেখানে সদর থানার ওসিসহ একদল পুলিশ কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে হাজির। পুলিশ পৌঁছানোর খবর পেয়ে বরপক্ষ আর আসেনি। ওসি মোহাম্মদ মহসীন কিশোরীর অভিভাবকদের বুঝিয়ে বাল্যবিবাহের হাত থেকে মেয়েটিকে রক্ষা করেন।

কিশোরীর অভিভাবকেরা ওসিকে জানান, পড়াশোনা করতে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের ভাড়া, পোশাক ও বইখাতা কেনা এবং প্রাইভেট পড়া ও স্কুলের নানান ফিসের জন্য টাকার প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাবার আর্থিক সচ্ছলতা নেই। যে কারণে নবম শ্রেণিতে ওঠার পর মেয়েটির পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে গতকাল বাল্যবিবাহ বন্ধের পর আজ সকালে ওসি মোহাম্মদ মহসীন সীমান্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মাত মেহেজাবীনকে নিয়ে গাড়াবাড়িয়া গ্রামের ছাগলাপাড়ায় কিশোরীর বাড়িতে যান। কিশোরীর অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব নেন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ের সব ফিসসহ সম্ভাব্য খরচ প্রধান শিক্ষকের হাতে তুলে দেন ওসি।

ওসি মোহাম্মদ মহসীন প্রথম আলোকে জানান, ওই কিশোরীকে নিশ্চিত বাল্যবিবাহ ও ঝরে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মানবাধিকারকর্মী মানি খন্দকারের তথ্যের ভিত্তিতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হয়। এরপর মানবিক কারণে কিশোরীকে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দিতে পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব নিই।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন