ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে আরও ২ মামলা

ওসি প্রদীপ
ওসি প্রদীপফাইল ছবি
বিজ্ঞাপন

৭০ লাখ টাকার চাঁদা না পেয়ে দুই ব্যক্তিকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগে টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে আর্টও দুটি মামলা হয়েছে। মামলা দুটির একটিতে ওসি প্রদীপসহ ১৬ জনকে অন্যটিতে ১৫জনকে আসামি করা হয়।

আজ সোমবার দুপুরে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দীনের আদালতে মামলা দুটি করা হয়।

একটি মামলার বাদী হয়েছেন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়ার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদের স্ত্রী লায়লা বেগম। অন্যটির বাদী একই ইউনিয়নের ডেইলপাড়ার বাসিন্দা মো. আজিজের মা হালিমা খাতুন। পৃথক ঘটনায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন নূর মোহাম্মদ ও মো. আজিজ। দুটি মামলায় ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বাদীপক্ষের আইনজীবী নূর হোসেন নাহিদ মো. মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, ফৌজদারি মামলার এজাহার দুটি আমলে নিয়েছেন বিচারক। ওই দিনের ঘটনায় টেকনাফ থানায় দায়েরকৃত মামলা, নিহত দুই ব্যক্তির ময়নাতদন্ত হয়ে থাকলে সেই রিপোর্ট আগামী ৪ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে টেকনাফ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগেও কক্সবাজারের বিভিন্ন আদালতে ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ শতাধিক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদার টাকা না পেয়ে ক্রসফায়ারে বিভিন্ন লোকজনকে হত্যার অভিযোগে পাঁচটি মামলা হয়েছে।

গত ৩১ জুলাই টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান। এ মামলায় অন্যতম প্রধান আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাবের কাছে সম্প্রতি চার দফায় টানা ১৫ দিনের রিমান্ড শেষে তিনি (প্রদীপ) এখন জেলা কারাগারে আছেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লায়লা বেগমের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ বীজ ও সার আনতে উপজেলা সদরের কৃষি অফিসে যান তাঁর স্বামী নূর মোহাম্মদ। এ সময় নূর মোহাম্মদকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ওসি প্রদীপসহ অন্যরা। না দিলে তাঁকে (স্বামীকে) ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। স্বামীকে প্রাণে বাঁচাতে বিভিন্নভাবে পাঁচ লাখ টাকা জোগাড় করে দেওয়া হয়। কিন্তু চাঁদার বাকি টাকা না পেয়ে ২১ মার্চ রাতে নূর মোহাম্মদকে সৈকতের ঝাউবাগানে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এ মামলায় ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অপর মামলার বাদী হালিমা বেগম এজাহারে উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালের ১৮ অক্টোবর টেকনাফ থানার একদল পুলিশ তাঁর (বাদীর) ছেলে মো. আজিজ এবং স্থানীয় নুর হাসান ও আবুল খায়েরকে তুলে নিয়ে যায়। পরে মো. আজিজের পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন ওসি প্রদীপসহ অন্যরা। না দিলে আজিজকে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এতে নিরুপায় হয়ে বিভিন্নভাবে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে পুলিশকে দেয় আজিজের পরিবার। কিন্তু ১৯ অক্টোবর রাতে টেকনাফের মহেশখালীয়াপাড়া নদীঘাট এলাকায় আজিজকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়। এ মামলায় ১৫জনকে আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন