আজ শনিবার সকালে মুঠোফোনে মোরসালিনের মামা জুয়েল বলেন, ঘটনার দিন মোরসালিনের ডিউটি ছিল দিনে। কারখানার পাশেই রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকায় মেসে থাকতেন মোরসালিন। আর তিনি থাকতেন রূপগঞ্জ নতুন বাজার এলাকায়। তাঁর ডিউটি রাতে থাকায় তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। সন্ধ্যার সময় এক সহকর্মী ফোন করে অফিসে আগুন লাগার কথা জানান। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোরসালিন তৃতীয় তলা থেকে লাফ দিয়েছিলেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোরসালিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মোরসালিনের বাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আবদুলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সুখদেবপুর গ্রামে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে ও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আজ শনিবার সকালে মোরসালিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির বারান্দায় শুয়ে আছেন তাঁর মা মোকছেদা খাতুন। বিলাপ করতে করতে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। কিছুক্ষণ পর চেতনা ফিরলে স্বজনদের জড়িয়ে ধরেন মোকছেদা। আক্ষেপ করে বলেন, ‘মোর ব্যাটা বোধ হয় ভাবিছে আগুনত পুড়িয়া গেলে তো মা–বাপ লাশটা পাইবে না, তাই মোর ব্যাটা ঝাঁপ দিছে। মোর দেখার কেউ থাকিল না। ও মা মুই কী নিয়া বাঁচিম গো।’

এদিকে ভাইয়ের শোকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোরসালিনের বোনও। কাঁদতে কাঁদতে তাঁর শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। কথা বলতে পারছেন না। মোরসালিনের লাশ কখন আসবে, এই অপেক্ষায় তাঁর বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার মানুষেরা ভিড় করছেন।

মোরসালিনের বাবা আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনার আগের দিনও ছেলের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন পাঁচ মাস হলো। মোরসালিন মুঠোফোনে সাড়ে চার হাজার টাকা বাবাকে পাঠিয়েছেন বোনকে দেওয়ার জন্য। মোরসালিন বলেছিলেন, গত ঈদে বাড়িতে আসতে পারেননি। এবার যেমন করেই হোক বাড়িতে আসবেন। কয়েকজন মিলে একটা মাইক্রোবাসও ঠিক করেছিলেন। আনিসুর আরও বলেন, কারখানার গেট বন্ধ থাকায় তাঁর ছেলে বের হওয়ার সুযোগ না পেয়ে প্রাণ বাঁচাতে ভবন থেকে লাফ দিয়েছিলেন। এটা দুর্ঘটনা নয়, এটা হত্যাকাণ্ড। এই হত্যার বিচার চান তিনি।