স্থানীয় সূত্র জানায়, কংস নদের ভাঙনে গত চার বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন ঠাকুরাকোনা-ফকিরের বাজার সড়কের চরপাড়া এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার অংশ বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো ভাঙন বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না।

সনদভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে কংসে নদে ভাঙন চলছে। এই দীর্ঘ সময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নদভাঙন প্রতিরোধের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেননি। বর্ষা এলেই পাউবোর কর্মকর্তারা নদভাঙনকবলিত এলাকায় এসে মাপজোখ করে চলে যান। কিন্তু এরপর আর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

কর্ণপুর গ্রামের সাহেব উদ্দিন, স্বপন সরকার, সত্যেন্দ্র বর্মণ, জামাল মিয়া, সবুর মিয়া, সেলিম মিয়া বলেন, নদটা তাঁদের বাড়ির অনেক দূরে ছিল। ভাঙতে ভাঙতে এখন তাঁদের বর্তমান বাড়ির কাছে চলে এসেছে। তাঁরা নদভাঙনের কারণে পাঁচবার স্থান পরিবর্তন করে বাড়ি করেছেন। এখন আর্থিক সংগতি না থাকায় তাঁরা বাড়ি সরিয়ে নিতে পারছেন না।

কর্ণপুর গ্রামের রাসেল আরাফাত বলেন, ‘বসতভিটার পাশাপাশি হুমকির মুখে আছে চলাচলের একমাত্র সড়কটিও। ওই সড়কসহ ওই দুই গ্রামে নদের তীরে স্থায়ী বাঁধ না দিলে আরও কয়েক হাজার বাড়িঘর হুমকিতে পড়বে।’

কর্ণপুর গ্রামের খোকন মজুমদার বলেন, ‘আমরা কয়েক বছর ধরে বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না।’

রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান বলেন, ‘কংসের ভাঙনে এ পযন্ত সহস্রাধিক পরিবার ভিটাছাড়া হয়েছে। হাজার হাজার একর জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গ্রাম রক্ষা বাঁধসহ সড়কটি রক্ষায় বিভিন্ন সময় পাউবোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি।’

কংস নদের ভাঙনের বিষয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত বলেন, ‘ভাঙন রোধে ৩৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করে পাউবোর প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে।’